
প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ২৩৮ মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে টানা ৬ষ্ঠবারের মতো জয় লাভ করেছেন সিলেট বিভাগের প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ। শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এই নেতা বিজয়ী হওয়ার পরই তার সমর্থকরা, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল এলাকাবাসী ও জেলার সচেতন মানুষজন তাকে পূর্ণমন্ত্রী রূপে দেখতে চাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিভিন্ন আড্ডায়ও তারা এই মত ব্যক্ত করেছেন।
উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ১৯৯১ সালে মৌলভীবাজার-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে তিনি এ আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ, ২০০১- ২০০৬ পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এবং ২০০৯- ২০১৪ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১০ম সংসদের তিনি সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পালন করছেন। তিনি সংসদ কমিটি, পিটিশন কমিটি ও কার্যপ্রণালী বিধি স¤পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলেরও তিনি সদস্য ছিলেন। এবার তাকে সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী করার দাবি জানাচ্ছেন নিজ নির্বাচনী এলাকা কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলাবাসী।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এ দুটি উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার- ৪ আসন গঠিত। সিলেট বিভাগের বর্ষিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদকে উন্নয়নের রুপকার হিসেবে বলেন স্থানীয়রা। তিনি মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুতায়নের কাজ করেন। সবশেষে শেখ হাসিনার সরকারের ১০ সংসদের সদস্য থাকাকালীন সময়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এনেছেন আর কমলগঞ্জ উপজেলাকে প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হওয়ার পথে রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের কমলগঞ্জ গণমহাবিদ্যালয় এবং কমলগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন। গত ১০ বছরে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় সোয়া ১১ শত কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করেন। দুই উপজেলার দলীয় নেতাকর্মী, সুধীমহল, ও সাধারণ ভোটাররা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। বিজয়ী হবার পরদিন থেকে নেতাকর্মী, সমর্থক, বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
দীর্ঘ ২৮ বছরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তার অবদান। ১৯৯১ সালের প্রথম নির্বাচনে উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম, সাইফুর রহমানের সাথে মৌলভীবাজার-৪ আসনে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তখন এম, সাইফুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হলে আলোচনায় সরব হয়ে উঠেন প্রবীন এ পার্লামেন্টারিয়ান। এলাকায় জনপ্রিয় এ নেতাকে সাধারণ মানুষ বারবার নির্বাচিত করেছেন। সাধারণ মানুষ এবার তাকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাইছেন।
উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদকে পূর্ণমন্ত্রী দিলে পর্যটন খ্যাত মৌলভীবাজার জেলাকে উন্নয়নে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করেন তারা। তার এই বিশাল ব্যবধানে জয় আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কারণেই হয়েছে বলে জানান দলের নেতাকর্মীরা। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই উপজেলায় আব্দুস শহীদের (নৌকা) মোট প্রাপ্ত ভোট ২ লক্ষ ১১ হাজার ৬১৩। আর বিএনপির (ধানের শীষ) প্রাপ্ত ভোট ৯৩ হাজার ২৯৫। ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তার।
কমলগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জয়নাল আবেদীন বলেন, 'যোগ্যতা ও জনগণের ভালোবাসায় উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ পরপর ছয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে মন্ত্রিত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানাবেন, এটাই এলাকাবাসীর আশা।'
কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমদ মানিক বলেন, মৌলভীবাজার জেলার কোনো আসনে পরপর ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ছাড়া কোনো নেতার নেই। ফলে উন্নয়ন কর্মকা-ের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে ও নৌকা প্রতীকের প্রতি কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলের মানুষের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে তাকে মন্ত্রী করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জুয়েল আহমেদ বলেন, 'জননেত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের তালিকায় রয়েছেন উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি। গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আসনের মানুষের কল্যাণে যে কাজগুলো করেছেন সেই কাজের প্রতিদানই মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে।
কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিঞা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আছলম ইকবাল মিলন, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক আব্দুল আহাদ মিনার, আদিবাসী নেতা পিডিশন প্রধান, উপজেলা দুর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক আব্দুল হান্নান চিনু, উপজেলা জাতীয় পার্টির সম্পাদক দুরুদ আলী, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সম্পাদক নিরঞ্জন দেব, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল প্রমুখ বলেন, ‘ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদকে আমরা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে সর্বাধিকবার নির্বাচিত করেছি। মন্ত্রী হওয়ার সকল যোগ্যতা উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এর মধ্যে রয়েছে। সৎ, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী এ জনপ্রতিনিধি শিক্ষাগত যোগ্যতায় বর্তমান অনেক মন্ত্রী থেকে এগিয়ে রয়েছেন। তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করা এখন সময়ের দাবি।’
সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলসহ জেলাবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গণমাধ্যমেকে বলেন, এবার আমার পরিকল্পনা পূরণ করতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে আমাকে অতীতে স্নেহ করেছেন এবারও তার স্নেহ পাব আশা করি। তিনি বলেন, এ বিজয় নৌকার, এ বিজয় এলাকার মানুষের। আগামীতে এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.