
বিশেষ প্রতিনিধি॥ আড়াই বছরের শিশু হালিমাকে চিপসের প্যাকেট দেখিয়ে কোলে করে নিয়ে হত্যা করে চাচা হেলাল মিয়া। আড়াই বছরের শিশু হালিমার মা খাদিজা আক্তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হেলাল মিয়া প্রতিশোধ নিতে তাকে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে হেলাল ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আলমগীর হোসেন এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দিন শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি সকালে হালিমাকে একটি চিপসের প্যাকেট দিয়ে কোলে করে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০গজ দূরত্বে একই গ্রামের ভূঁইয়াপাড়া মহল্লায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুটি বহুতল ভবনের মাঝখানের সরু জায়গার লাশ রেখে দেয়। হত্যাকা-ের সময় রুবেল নামের এক রাজমিস্ত্রি পাহারা দিয়েছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে হেলাল। আটক হেলাল পুলিশকে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে খাদিজা বেগমকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু রাজি না হওয়ায় এবং পারিবারিক কলহের জের ধরেই এক মাস আগেও হেলাল ভাতিজি হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এমনকি ঘটনার ১০-১৫দিন আগে বাড়ির পেছনে একটি পুকুরে ডুবিয়ে হালিমা হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় হেলাল।
৪-৫দিন আগে হেলাল এলাকার রাজমিস্ত্রি রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ভাদুঘরের ভূঁইয়াপাড়া মহল্লার নির্জন জায়গা নির্ধারণ করে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হেলাল প্রতিশোধ হিসেবে কয়েক দিন পর গত শনিবার শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর দুটি বহুতল ভবনের মাঝখানের সরু জায়গা থেকে শিশু হালিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হালিমার বাবা আমির হোসেন পেশায় রাজমিস্ত্রি।
খাদিজা বেগম এ ঘটনায় বাদী হয়ে সদর থানায় দ’জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রোববার ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হেলাল মিয়া (২৬) ও রাত ১২টার দিকে ভাদুঘর এলাকা থেকে তাঁর সহযোগী রুবেল মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য শিশু হালিমা নিখোঁজের পর মাইকিং চলার ফাঁকেই দুপুর পৌনে ১টার দিকে এলো খবর হালিমার সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সে খবর বুকভাঙার। ছোট্ট হালিমার দেহ মিলেছে ভবনের ফাঁকে। মা-বাবা তো পড়িমড়ি করে ছুটে গিয়ে জেলা শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। তোলপাড় শুরু হয় সারা দেশে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে সদর মডেল থানা পুলিশে বেশ কয়েকটি টিম রোববার রাতে অভিযানে নামে।
সন্দেহভাজন ৫-৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তার মধ্যে নিহত হালিমার মা খাদিজা ও বাবা আমিরসহ নিকটাত্মীয়রা আছে। রাতেই তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কোনো মুখ খুলছে না।
তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হালিমা হত্যার পেছনে তার মা খাদিজার সঙ্গে কারও পরকীয়া সম্পর্ক আছে কিনা, পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা তৃতীয় কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে কিনা? এসব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন রোববার সকালে জানান, ঘটনার পর আমরা আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল হক বলেন, এক মাস আগে গৃহস্থালির কাজ নিয়ে হেলাল ও তার মা-বাবার সঙ্গে খাদিজা বেগমের ঝগড়া হয়। তখন থেকেই হালিমাকে হত্যার করে তার মায়ের ওপর প্রতিশোধের পরিকল্পনা করে আসছিল হেলাল।
সংবাদ সম্মেলনের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.