
জুড়ী প্রতিনিধি॥ জুড়ীতে ভাইস চেয়ারম্যান পদের ফলাফলকে ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ১৮ মার্চ সোমবার রাত আনুমানিক ১০টায় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল আহমেদ (২০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ ও আব্দুল মন্নান, শামুসহ অন্তত ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এসময় উশৃঙ্খল যুবকরা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কন্ট্রোলরুমের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করেছে এবং নির্বাচন সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের লাঞ্চিত করেছে। এ ঘটনায় সরকারী সম্পদ বিনষ্ট ও হামলার অভিযোগে থানায় সরকার বাদী মামলা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ শাকিল উপজেলার জাঙ্গীরাই এলাকার মৃত রাজা মিয়ার ছেলে। তবে তিনি কোন পক্ষের সমর্থক তা জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদের ফলাফলে রিংকু রঞ্জন দাশ টিউবওয়েল প্রতিকে ১৫ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জুয়েল আহমদ বই প্রতিকে ১৪ হাজার ৪৫৫ ভোট পান। কন্ট্রোলরুম থেকে রিংকু রঞ্জন দাশকে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হলে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিজয়ী প্রার্থীর ৯৭১ ভোটের এই ব্যবধান সঠিক নয় দাবী করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জুয়েল উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাকিলকে উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গুলির দায়-দায়িত্ব পুলিশ ও প্রার্থীদের পক্ষের কেউ স্বীকার করেনি।
কুলাউড়া হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার চিকিৎসক সোহেল আহমদ জানান, আহত শাকিলের মাথায় তিনটি গুলি লেগেছে। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু ইউসুফ রাতেই হাসপাতালে আহত সোহেল আহমদকে দেখতে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম সর্দার জানান, ফলাফল না মেনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জুয়েল আহমদ উপজেলা ক›্ট্েরালরুমে বাকবিতন্ডায় জড়ালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে কে কাকে গুলি করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ আহত একজনকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জুড়ী ইউএনও অসীম চন্দ্র বণিক জানান, ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র পরাজিত প্রার্থীর নেতৃত্বে হাজারো উত্তেজিত কর্মী-সমর্থক কন্ট্রোলরুমে হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে সরকারী সম্পদের ক্ষতি সাধন করেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.