
স্টাফ রিপোর্টার॥ পর্যটন জেলা ও চায়ের রাজধানীখ্যাত দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, কুশিয়ারা ও মনু নদী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে নদী পথে যাতায়াতসহ ব্যবসা-বানিজ্য ছিল এ জেলার বহু মানুষের। নদীর সাথে ঘেষে থাকা এ জেলায় ব্যবসায়িক কারণে সেই যুগে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার সাথে নৌ পথে যোগাযোগ হতো বেশি। আজো আছে সেই কুশিয়ারা, মনু নদীসহ আরো অনেক নদী। কিন্তু ভরাট হয়ে যাওয়াতে মনু নদী দিয়ে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে নৌ চলাচল।
সম্প্রতি মনু নদ খনন করতে প্রায় ২৩ কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ দিলেও বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারনে খনন কার্যক্রম সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা জানিয়েছেন নদের যেসব চড় কেটে খনন করার কথা সেগুলো বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়াতে খনন সম্ভব হচ্ছেনা। আগামী শুষ্ক মৌসুমে খনন কাজ শুরু হবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবতী শুক্রবার ৫ এপ্রিল জানান, মনু নদী খননে টেন্ডার হয়েছে। ৩টি প্যাকেজে ঢাকার ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। এখন শুধু চুক্তি ফর্মালিটি চলছে। তবে নদে পানি বেড়ে যাওয়াতে চড় কাটতে সমস্যা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে খনন কাজ হবে।
তিনি আরো জানান, ২০২০ সালের নবেম্বর পর্যন্ত থাকা এ মেয়াদের কাজগুলি ঢাকার ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান করছে। দুটি প্যাকেজের মধ্যে সদর উপজেলার “শাখা ভরাট” এর ৮ কিলোমিটার যায়গার মধ্যে ৬ কিলোমিটার খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জুড়ী উপজেলায় প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা ব্যয়ে “মরা জুড়ী” খনন কাজ চলমান আছে। সবচেয়ে বড় প্যাকেজটি প্রক্রিয়াধিন।
এদিকে আগাম বন্যায় মনু নদী’র কেমন হাল হবে তা নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন মৌলভীবাজার শহরের মনুর গ্রাসে আক্রান্ত সাধারণ মানুষেরা। তারা বলেছেন, সিংহভাগ যায়গা ভরাট হয়ে যাওয়াতে নদের প্রবল শ্রোতের শিকার হয় জেলা শহরের পশ্চিমবাজার, বড়হাটসহ আরো অনেক গ্রাম। নদীটি খনন করা না হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
এছাড়াও শহরের মানুষ বহু আতঙ্কে কেটেছেন গেল বছরটি। গেল বছর উজানের ঢলে মনূ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গভীর রাতে মৌলভীবাজার শহরের মনু নদীর বাঁধের বাড়ইকোনায় ভেঙ্গে বন্যার পানি প্রবেশ করে বড়হাট, ধরকাপন, বড়কাপন, দ্বারক, গোবিন্দ্রশ্রী। ক্ষতি হয় সহ¯্রাধিক মানুষের গবাদি পশুসহ মূল্যবান মালামাল খুয়ে যায়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.