
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা।
১৩ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ সড়কে আনোয়ারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার সামনে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন এ সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা মাহবুব আহমেদ সালেহ, সঞ্চলনা করেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক তালামীযে ইসলামিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা। বক্তব্য রাখেন তালামীযের সহ সভাপতি শামসুল ইসলাম সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, আলিয়া মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওঃ জুনায়েদ আহমেদ, ইংলিশ প্রভাষক জনাব এনামুল হক সহ অনেক শিক্ষকবৃন্দ, তালামীয কর্মীবৃন্দ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নুসরাত হত্যাকা-ে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। এ হত্যাকা-ের মূলহোতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দিতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নারীদের তিন সন্তানের জননী এমনকি শিশুদেরও যৌন নির্যাতন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, যৌন নির্যাতনের জন্য কঠিন আইন করা হোক। যেন নারীদের নির্যাতন করতে ভয় পায়।
বক্তারা বলেন, নুসরাত আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। সে অন্যায়ের কাছে মাথা নতো করেনি। মৃত্যুর আগেও সে দোষীদের শাস্তি চেয়েছে। তাই আমাদের সবাইকে যার যার স্থান থেকে প্রতিবাদ করতে হবে, যেন আর কোনো নারী নির্যাতনকারী রেহাই না পায়।
উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। পরিবারের অভিযোগ, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে স্বজনদের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়েও প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.