
তোফায়েল পাপ্পু॥ বৈশাখের শুরুতেই তীব্র তাপদাহের কবলে পড়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলবাসী। খরতাপে পুড়ছে পুরো উপজেলা। গত কয়েক দিন ধরেই তাপ প্রবাহে মানুষের অবস্থা কাহিল। প্রখর রোদে পুড়ছে পথ-ঘাট। অস্থির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পশু-পাখিরাও হাঁস-ফাঁস করছে গরমে। দেখা মিলছেনা কাঙ্খিত বৃষ্টির। প্রচ- দাবদাহে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্টের শেষ নেই। বয়স্করা গরম সহ্য করতে না পেরে গাছের নীচে মাদুরে শুয়ে সময় পার করছেন। গরম বেশি হওয়ার ফলে সাধারণ কাজ-কর্ম করতে হাঁপিয়ে উঠছে মানুষ।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ক্রমাগত তাপমাত্রা বাড়ছে । এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে । আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো: মুজিবুর রহমান জানান গত বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সারাদিনের প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে জনজীবন একেবারেই অতিষ্ঠ। প্রখর রোদের ভেতর খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের হতে দেখা মিলছে না। প্রচ- রোদে গাছ থেকে ঝরে যাচ্ছে আমের গুটি। দুপুর হতেই শহরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ছে। হাটবাজার মোড়গুলোতে ঠান্ডা ডাবের পানি এমনকি রসাল ফল তরমুজ দিয়ে অনেককে আতœা ঠান্ডা করতে দেখা যায়। মানুষের পাশাপাশি প্রাণীকুলের মাঝেও প্রচন্ড রোদেলা গরমে হিমশিম খেতে নজরে পড়ে। তাছাড়া প্রখর রোদের কারণে মাঠে ময়দানে খেটে খাওয়া লোকজন কাজে যেতে পারছে না। ফলে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনকাটাতে হচ্ছে। অপরদিকে বৃষ্ঠিপাত না হওয়ায় সর্বত্র মশা-মাছি ও পোকা-মাকরের উপদ্রপ বেড়ে গেছে অসহনীয় হারে। মশার উপদ্রপে লোকজন অতিষ্ঠ হলেও মশা ধ্বংশে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি।
প্রখর রোদের ভেতর কাজে ঘাম ঝরিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতাল গুলোতে রোগীর দেখা মিলছে। এই প্রচন্ড গরমে অনেকে ডায়রিয়া, জ্বর, শিশুদের সর্দি, কাশি নিয়ে তারা ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে ডাক্তারগণ শরীর থেকে ঘাম ঝরে দুর্বল অতঃপর অসুস্থ হওয়ার কারণে বেশি বেশি স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.