
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ গত শনিবার ভোর রাতে স্বামী স্ত্রীর দ্বন্ধের জেরধরে শ্বশুরের ঘরে আগুন দিয়ে জালিয়ে দিয়েছিল আপন মেয়ের জামাই পাশের গ্রামের মৃত আজগর আলী ছেলে আলতাই মিয়া(৪৩)। সেই ঘরটি সম্পূর্ণজ্বলে যাওয়ার পর ওসি কথা দিয়েছিলেন ঘর বানিয়ে দেওয়ার। তিনি তার কথা রাখলেন। দুদিনের মাথায় টিন দিয়ে ঘর বানিয়ে দিলৈন।
সেদিন আগুনের প্রচন্ড তাপে ঘুম থেকে জেগে উঠে পরিবারের ছয়সদস্য কোনোমতে প্রাণে বাঁচেন। তবে পেট্রলিয়াম দ্রব্যদিয়ে ঘরে রাখা লাকড়িতে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া তিনকক্ষের বসতঘরটির মালামাল অবশিষ্ট কিছুই থাকেনি। আর তাতেই পুড়েছারখার হয়ে যায় তাদের সাজানো গোছোনো সংসার।
গত রবিবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের রাজপাড়াগ্রামে আগুনে পুড়ে ছাই হওয়া বসতঘরটি পরিদর্শনে যান ওসি কে এম নজরুল। সেখানে তিনি গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেন এবং দায়ী জামাতা আলতাই কে দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক আইনের মুখোমুখি করার আশ্বাস দেন।
এসময় তিনি নিঃস্ব পরিবারটির করুণ অবস্থা দেখে তাদের কস্ট সামলে নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে দিনমজুর পরিবারটির সদস্যদের মাথাগোজার জন্য একটি ঘর বানানোর আশ্বাস প্রদান করেন। তখন তিনি পরিবারটির হাতে কাপড়চোপড় ও গৃহস্থালির তৈজসপত্র কেনার জন্য নগদ টাকা দেন। সেই আশ্বাসের দুইদিনের মাথায় নতুন ঘর তৈরি করে দেন।
নতুন ঘর পেয়ে খুশিতে পরিবারে ছোটবড় সকল সদস্যরা। পরিবারের মুরুব্বী রহিমা বেগম নতুন ঘর আর জামা কাপড়চোপড় পেয়ে ওসি কে এম নজরুলের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করেন। আর বলেন,আল্লাহ যেনো ওসি স্যারের ভালাই করেন। "
জানতে চাইলে ওসি কে এম নজরুল বলেন,আমার শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শে রাজপাড়া গ্রামের অসহায় পরিবারটির আগুনে পোড়ে যাওয়া ঘর, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই দিনের মধ্যে নতুন ঘর তৈরী করে দিলাম।
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, ঘর তৈরীর কাজে যারা আমাকে সহযোগীতা করেছেন।
এদিকে আলতাই মিয়ার স্ত্রী রুবি আক্তারের ভাই মুসলিম মিয়া বলেন,একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বাদেআলীশা গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে আলতাফ মিয়ার সহিত আমার বোনের ৭ বছর আগে দ্বিতীয় বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই সে আমাদের বাড়িতে থাকে। গত ২০/২২দিন ধরে সমিতির কিস্তির টাকা নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া চলে আসিছিল। তাদের মধ্যে কথাবার্তা বন্ধ ছিল। বাজার সদাইও দিত না। কিস্তির টাকার জন্য গ্রামে মুরুব্বীদের কাছে বিচার চাওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে রুবিকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। এমনকি বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার কথা বলে। এরপরই এঘটনাটি ঘটে।”
তিনি বলেন,গত শনিবার ফজরের আজানের ঠিক আগে আগুন লাগে। ঘরের একটি কোঠায় রাখা লাকড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন সবাই ঘুমে ছিলাম। আগুনের তাপে আমার স্ত্রীর ঘুম ভেঙে সকলকে ডাকাডাকি করে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণ বাঁচি। কাপড় চোপড়সহ কোনো মালামাল বের করতে পারিনি।
মুসলিম বলেন,ঘর থেকে বের হওয়ার পর দেখি তিনজন লোক। এর মাঝে আলতা মিয়া মোটরসাইকেলে চলে যাচ্ছে। এদিন সকালে বাজারে গিয়ে দেখি আলতা দোকানে বসে লোকদের সাথে কথা বলে। আমাকে দেখে সে খোঁচাকাছি দিয়ে টিটকারি মারে ও ভয়ভীতি দেখায়।”
স্বামী আলতাইর স্ত্রী রুবি বেগম জানান, তার স্বামী দুটি বিয়ে করেছেন। দুজনকেই নিয়ে আলাদা পরিবারে বসবাস করেন। এক বছর পূর্বে ৭০ হাজার টাকা স্থানীয় আরডিআরএস সমিতি থেকে লোন উঠিয়ে তার স্বামীকে দেন। উক্ত লোনের কিস্তি প্রতি সপ্তাহে ১৮০০ টাকা করে দিতে হয়। কিন্তু তার স্বামী আলতা নিয়মিত কিস্তির টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ঝাটি হতো। ঝগড়ার কারনে সে রীতিমত ভরণ পোষণও নিতো না। এমন কি সবসময় স্ত্রীকে গালাগাল ও হত্যার ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে বলতো, তারা বাবার বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে জ¦লিয়ে দিবে। এবিষয়ে গ্রামে বিচার সালিশ দিলে বিচার মানতো না। এরই জেরধরে সে বাড়িতে এসে লাকড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে সবাইকে প্রাণে মারতে চেয়েছিল। ঘটনারদিন রুবি সদর ইউনিয়নের লালবাগের তার নানা বাড়িতে এক বিয়েতে ছিলেন। তবে তার ভাই মুসলিম,মুসলিমের স্ত্রী শেফু বেগম,মা রহিমা,সাতবছরের শিশু হাবিবুর রহমান ও রুবি বেগমের আগের সংসারের ১৪ বছরের ছেলে মামুন ও ১১ বছরের মেয়ে ফারজানা বসত ঘরে ঘুমে ছিলেন।
তবে পেশায় রাস্তার ঠিকাদার আলতা মিয়া মুঠোফোনে বলেন,‘বসতঘরে সে আগুন দেয়নি। তারা বিরুদ্ধে শ্বশুর জহুর আলী এসব সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আগুন লাগার দিন বাড়ীতে কেউ ছিল না। সঠিক তদন্ত হলে আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে।”
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.