সাইফুল্লাহ হাসান॥ শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে মৌলভীবাজারে ইফতার বাজার। রকমারি ইফতার সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে শহরের হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলো। বিকেল ৫ টার পর ইফতারের দোকানগুলোতে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের সমাগম। তবে রোদের তীব্রতা বেশি হওয়ায় রোজাদারদের কাছে মধুমাসের ফলমুলের চাহিদা একটু বেশি।
শহরের কয়েকটি ইফতারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, ইফতারের আগ মুহূর্তে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষনীয়। শহরেরর প্রতিটি নামিদামি রেষ্টুরেন্টের সামনে নানা রঙ্গের শামিয়ানা টানিয়ে বাহারী ইফতার সামগ্রী নিয়ে সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ইফতারির মধ্যে আছে নিমকি, জিলাপি, ছোলা, আলুর চপ, মোরগ পোলাও, বেগুনি, হালিমসহ হরেক রকমের উপকরণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো- পানসী রেষ্টুরেন্ট, মামার বাড়ী রেষ্টুরেন্ট, দিল্লী রেষ্টুরেন্ট, মিঠাই বাজার, স্বাদ, রাজমহল, শাহ মোস্তফা বিরিয়ানী হাউজ, সুমা ফুড, কলাপাতা রেষ্টুরেন্ট।
বিভিন্ন দোকানে এরকম দেখা যায়, প্রতি বাক্স চিকেন বিরিয়ানী ২০০ টাকা, বিফ বিরিয়ানী ২২০ টাকা, আলু চপ প্রতি পিছ ৫ টাকা, রেশমী কাবাব প্রতি পিছ ১৫ টাকা, চিকেন পিয়াজু প্রতি পিছ ১৫ টাকা, শাক বড়া প্রতি পিছ ৫ টাকা, পাটিসাপটা প্রতি পিছ ১০ টাকা, চিকেন উইংস ৩ পিছ ৮০টাকা, ফিস সমুচা প্রতি পিছ ১৫ টাকা, চিকেন আখনি ২৩০, বিফ আখনি ২৫০, চিকেন গ্রিল প্রতি পিছ ৩২০, বিফ চাপ ৮০ টাকা, বিফ কাটি কাবাব প্রতি স্টিক ৮০ টাকা, চিকেন টিক্কা প্রতি পিছ ১২০ টাকা, চিকেন লেগ প্রতি পিছ ৭০ টাকা, জিলাপি ১৫০ টাকা প্রতি কেজি, ছোলা ১৫০ টাকা প্রতি কেজি, নিমকি ১২০ টাকা প্রতি কেজি, শাহী হালিম ১৬০ টাকা প্রতি কেজি।
এবারের রমজান মাস পড়েছে জৈষ্ঠ মাসকে সামনে রেখে। এদিকে সারা দিন রোজা রেখে ইফতারে অবশ্য মধুমাসের ফলমুলও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বৈশাখের এই শেষ সময়ে এসে বাজারে আসতে শুরু করেছে গ্রীষ্মকালীন আগাম ফল: আম, আনারস, লিচুসহ হরেক রকমের ফলমূল।
শহরের বিভিন্ন ফলের দোকানে গেলে দেখা যায়, ইফতারের বাজারে যে রকম ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয় ছিল, ফলের দোকানেও একই ধরণের। তবে বেশিরভাগ লোকই দেশীয় ফলমুল কিনতে দেখা গেছে। দেখা যায় আধাপাকা লিচু নিয়ে ঠেলাগাড়িতে ফেরি করে বেড়াচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী। আর ক্রেতাদের কাছেও টক কিংবা মিষ্টি সেটা কোনো বিষয়ই নয়।
ইফতারি কিনতে আসা আব্দুস সামাদ বলেন, মেছে থাকিতো তাই ইফতারের কিছু আইটেম বাইরে থেকে কিনতে হয়। বাইরের খাবার আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। তারপরও কিছু করার নেই। আমরাতো আর খাদ্যের ভেজাল ধরতে পারবো না। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরুধ করছি খাবারে ভেজাল আছে কি না নিশ্চিত করা।
ফলের বাজারে কথা হয় রাসেল নামের আরেক ক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, যে গরম পড়ছে , এই গরমে ইফতারের সময় ডাবর পানিসহ ফলমুলের তুলনা হয় না। তাই ইফতারি কেনার পাশাপাশি দেশি কিছু ফল কিনলাম। দুইটা ডাব কিনলাম এবং দুই হালি দেশি অনারসও কিনলাম।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.