
ইমাদ উদ দীন॥ এক লন্ডনী মৌলভীবাজার শেরপুর গোলচত্তরে আক্কাসের ভিডিও দোকানে একটি কক্ষ ভাড়া করে প্রায়ই কামরানকে বলৎকার করত। একদিন কামরান রাজী না হওয়ায় লন্ডনী ক্ষেপে গিয়ে তাকে মারপিট করে। পরবর্তীতে প্রতিশোধ নিতে লন্ডনী কামরানকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনায় পলাতক আসামী ইউনুছকে দশ হাজার টাকা দিয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টম্বর মাসের ৯ তারিখ রাতে কামরানের গলায় রশি প্যাচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় কামরানের বাবা মুনির উদ্দিন (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন। ৪ বছর পর এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
২৩ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান আসামী ইউনুছ, সাদ্দাম, বাদশা, কামাল, মহসিন, আলী, রাহিন সহ গভীর রাতে কামরানের গলায় রশি প্যাচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর কামরানের লাশ পিকআপ গাড়ির ভিতর ড্রাইভারের সিটের উপর ফেলে রাখে। হত্যাকান্ডের সময় জৈনক লন্ডনী ঘটনাস্থলের পাশে দাড়িয়ে পাহারা দেয়। লন্ডনীর পরিচয় এখনও সনাক্ত করা যায়নি। সনাক্ত করনের জোর প্রচেষ্টাসহ পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায় ৪ বছর পূর্বে নবীগঞ্জ উপজেলার মোঃ মুনির উদ্দিনের ছোট ছেলে মোঃ কামরান হোসেন (১৩) অভিমান করে বাড়ি থেকে করে পালিয়ে যায়। সে তখন ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। কামরানের পরিবারের অনেক খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে জানতে পারেন যে তাদের ছেলে কামরান শেরপুর বাজারে ফলের দোকানসহ আশ পাশের ফলের দোকানের ফল নামানোর কাজ করে। এই খবরে কামরানের বাবা মুনির উদ্দিন শেরপুর আসেন। তখন কামরান তার বাবাকে দেখিয়া পালিয়ে যায়। তখন তার বাবা ফলের দোকানদারদেরকে তার ছেলের প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে বাড়ি চলে আসেন। তারপর ১৫ সালের ৪ সেপ্টম্বর কামরানের মৃত দেহ গাংপাড় রোডে মঞ্জিল ওয়ার্কশপের সামনে একটি পিকআপ গাড়ির ভিতর সামনের সিটের উপর পাওয়া যায়। শেরপুরের পুলিশ ফাড়ির লাশ ময়না তদন্তের পর বাদী মুনির উদ্দিন মৌলভীবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দফায় দফায় মামলার তদন্তের কোন রহস্য উদঘাটন হচ্ছিল না। আদালত পুনরায় তদন্তের জন্য মামালাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ তদন্তের পর বিভিন্ন সময়ে রহস্য উদঘাটনের জন্য গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়। এক পর্যায়ে সোর্সের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী মহসিন তাহার বাড়িতে অবস্থান করছে। তখন তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। মহসিনকে গ্রেফতার করার পর জিজ্ঞসাবাদে সে কামরানকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই হত্যাকান্ডের সাথে শেরপুরের সাদ্দাম, বাদশা, কামাল, ইউনুস, আলী, রাহিনদের নাম প্রকাশ করে। এরপর একে একে সাদ্দাম, বাদশা, কামালদেরকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
গ্রেফতার কৃত মহসিন, সাদ্দাম, বাদশা, কামালদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাহারা ৪জনই কামরান হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিবিআই পুলিশের ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সাব ইন্সপেক্টর মোঃ কামরুল ইসলাম মোল¬া প্রমুখ।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.