
স্টাফ রিপোর্টর॥ ওদের এমন অদক্ষ টানা হেঁচড়াতে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মায়ের গর্ভেই মৃত্যু হয় নবজাতকের। নবজাতক মৃত্যুর এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের নার্সদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা নিরবে ঘটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তা ভাইরাল হলে ঝড় উঠে নানা আলোচনা সমালোচনার। হাসপাতালের সেবার মানও নিয়ে নানা জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের ক্ষোভের কথা লিখছেন। সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জেলার সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
জানা যায় কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ কুমরা-কাপন গ্রামের আউয়াল হাসান ১৪ জুলাই রোববার সকালে তার গর্ভবর্তী স্ত্রী সুমনা বেগমকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি করান। এসময় দায়িত্বরত নার্সরা সুমনার অবস্থা দেখে প্রথমে নরমাল ডেলিভারী কথা বলে পরে সিজারের পরামর্শ দেন। সিজারের জন্য ১ ব্যাগ রক্ত ও ঔষধ নিয়ে আসার কথাও বলেন। নার্সদের পছন্দের ফার্মেসী থেকে ঔষধ ও রক্ত কিনে আনার জন্য আউয়াল হাসানের সাথে নাসর্রা তাদের মনোনীত একজন লোক দেন। কিন্তু আওয়াল নার্সের দেয়া লোককে বিদায় করে তুলনা মূলক কম দামে অন্য ফার্মেসী থেকে ঔষধ ও রক্ত নিয়ে এসে দেখেন নার্সরা নরমাল ডেলিভারীর কথা বলে সুমনাকে তার শাশুড়ি আছিয়া বেগমের কাছ থেকে ডেলিভারী কক্ষে নিয়ে গেছেন।
২০ মিনিট পরে একজন নার্স এসে আওয়ালকে বলেন আপনার বাচ্চা মারা গেছে। স্ত্রীকে বাঁচাতে হলে সিলেট উসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। একথা বলে নাসর্রা সবাই ওখান থেকে সটকে পড়েন। এসময় আওয়াল স্ত্রী ও বাচ্চার (অর্ধেক ভিতরে ও বাহিরে) অবস্থার অবনতি দেখে চিৎকার করলে সুয়েব নামের এক লোক আওয়ালকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন এবং বলেন এখানে চিৎকার করার জায়গা নয়, বাহিরে গিয়ে চিৎকার কর। তখন আওয়াল স্ত্রীকে বাঁচাতে প্রথম শহরের নূরজাহান প্রাইভেট হাসপাতলে নিয়ে যান। নূরজাহান কর্তৃপক্ষের ধারা এটা সম্ভব না হলে পরে পুরাতন হাসপাতল রোডস্থ আল-হামরা প্রাইভেট হাসপাতালে সুমনাকে নিয়ে আসেন। বিকাল ৫টায় ডাঃ হাদী হোসেন অপারেশন করে মৃত (মেয়ে) বাচ্চা বের করেন। এবিষয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পার্থ সারথি দত্ত কানুনগো বলেন ৩জন গাইনী বিশেষজ্ঞ অনেক চেষ্টা করেও ডেলিবারী করতে পারেননি। পরবর্তীতে ওই রোগীকে সিলেট উসমানী হাসপাতালে রেফার করা হয়। টেনে হিঁচড়ে মারার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
জেলা রোগীকল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: ছাদিক আহমদ বলেন এই ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়া হউক। এদের কারনেই এই ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালের সুনাম দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। তারা বলেন ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের প্রতি আরো মানবিক হওয়ার প্রয়োজন। যে দূর্ঘটনা ঘটেছে তা নিন্দনীয় ও অমানবিক।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.