আশরাফ আলী॥ মৌলভীবাজারে ছেলেধরা গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপরিচিত কাউকে সন্দেহ হলে গণপিটুনির স্বীকার হতে হয়। এ পর্যন্ত এই গুজবে এক বৃদ্ধকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এবং গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন ৫জন। এছাড়া ছেলেধরা সন্দেহে হেনস্তার শিকার হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এদিকে ছেলেধরা গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে পুলিশ।
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছেলেধরা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ব্যক্তিগত আইডি ও ফেইসবুক পেজ থেকে এসব গুজব রটানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ছেলেধরা গুজবে আতঙ্কিত হয়ে অনেক অভিভাবক ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছেন। বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা কমে গেছে। অনেক অভিভাবক স্কুল ছুটির আগে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে যেতে চান। এ নিয়ে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে অভিভাবক সমাবেশ ও মা সমাবেশ করবেন বলে জানান শিক্ষকরা।
মৌলভীবাজার শহরতলীর জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা জহুরা জানান, ছেলেধরা সন্দেহে স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৪০-৫০ ভাগ। আগে যেখানে ৯০-৯৫ভাগ শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকত। এমনকি অভিভাবকরা স্কুলের কক্ষে এসে বসে থাকেন। যার কারণে পাঠদান ব্যহৃত হচ্ছে। সামনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা রয়েছে।
এদিকে রবিবার ২১ জুলাই মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট ব্রিজের পাশে রিকশাচালক এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে পথচারীরা। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
ঐদিন সকালে জেলার জুড়ি উপজেলার মাধবটিলা গ্রামে এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। পরে এলাকার মুরব্বিদের সহযোগিতায় ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন আছে।
এদিকে শনিবার ২০ জুলাই রাত ১০টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধকে (৫০) পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। এই ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরদিন ৩শ থেকে ৪শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে জেলাজুড়ে। ছেলেধরা আতঙ্কে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে গত শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছেন এলাকাবাসী।
ফুফাতো ভাইকে খুঁজতে আসেন ভদ্রলোক। সেখানে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকার ছেলেরা তাকে মারতে গেলে স্থানীয় যুবক আব্দুল কাইয়ুম মুন্না উদ্ধার করে তাকে নিজের হেজাফতে নেন।
আব্দুল কাইয়ুম মুন্না জানান, যখন জিজ্ঞেস করি তখন জানান তার ফুফাতো ভাইকে খুঁজতে এসেছেন। নাম বলেছেন কিন্তু ছবি কিংবা মোবাইল নম্বর নাই। লোকটি ভদ্রলোক। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি এ নামে আমাদের এলাকায় একজন আছেন যিনি কিছুদিন আগে জমি কিনে নতুন এসেছেন। যদি ওনাকে না সরাতাম তাহলে দূর্ঘটনা ঘটতে পারত।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে যাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে আমরা খবর পেয়ে সেখান থেকে তাদের সাথে সাথে উদ্ধার করেছি। আমরা বিষয়টি মনিটরিংয়ে রেখেছি। একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেইসবুক আইডি বা পেজে গুজব যারা ছড়াচ্ছে এরকম কেউ মৌলভীবাজারে নেই।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.