
ইমাদ উদ দীন॥ ভূ-মানচিত্রের কারনেই এজেলা প্রকৃতির রুপ সৌন্দর্য অতুলনীয়। কিন্তু যতাযত ভাবে হচ্ছেনা তার স্বদব্যবহার। তাই এখাতের রাজস্ব আয় থেকে যেমন বঞ্চিত সরকার। তেমনি ব্যাপক কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত স্থানীয় জনগণও। পর্যটকদের মনোরঞ্জন যোগাতে বছর জুড়ে প্রস্তুত প্রকৃতির মানসকন্যা মৌলভীবাজার। এখানকার চারদিকে শুধু সবুজ দুনিয়া। আর সফেদ জলরাশি। বাদ পড়েনি প্রকৃতির সাথে মিতালীর কোন উপকরণই। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় উজাড় করা রুপ মাধূর্য আকৃষ্ট করে যে কাউকে। শীত আর গ্রীষ্ম। দু’মৌসুমে এখানকার প্রকৃতির দু’ধরনের রুপ সৌন্দর্য। কিন্তু প্রকৃতি প্রদত্ত এজেলার প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পকে অগ্রসর করতে পারছেন না সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। পর্যটন শিল্প বিকাশে সম্ভাবনাময়ী এজেলা শুধুমাত্র কার্যকরী উদ্যোগ ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধু সভা সেমিনার বক্তব্য আর কাগজে কলমে তাদের এই উদ্দ্যোগ সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এমনটি মনে করছেন প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা।
জানা যায় নৈসর্গিক সুর্ন্দযের অপরূপ লিলা ভূমি চায়ের রাজধানী খ্যাত পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারকে ২০০৮ সালে পর্যটন জেলা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখনো পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য সরকারের তরফে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। যার ফলে এজেলায় বিকশিত হচ্ছে না এ শিল্প। আর এ কারনে প্রতি বছর বড় অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। পর্যটন জেলা ঘোষণার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কোন উদ্যোগ কিংবা পরিকল্পনার দৃশ্যমান কোন উন্নতি চোখে না পড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতাকে দায়ি করছেন পর্যটক বিশ্লেষকরা। এ জেলায় মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া,মাধবপুর লেইক, বাইক্কাবিল, চা বাগান ও একাত্তর বধ্য ভুমি সহ হাতেগুনা কয়েকটি পর্যটন স্পট ব্যতীত নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র দেশি-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলার মতো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করা হয়নি। অথচ জেলায় চা-বাগান, হাওর-বাওড়, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যপূর্ণ জনপদের অর্ধশতাধিক আর্কষণীয় স্পট রয়েছে। রুপ বৈচিত্র্যের এসকল স্পটকে ঘিরে পর্যট শিল্প বিকাশে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। এশিয়ার অন্যতম বৃহত ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওর মিটা পানির মাছ,জলজ প্রাণী,উদ্ভিদসহ রুপ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের আধার হাকালুকি হাওর জানান দিচ্ছে সম্ভাবনাময়ী পর্যটন শিল্পের হাতছানি। অথচ এই হাওরকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকরি পদক্ষেপই হাতে নেয়নি। 
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান দেশ ও বিদেশী অনেক পর্যটক মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে যাওয়ার পথে জানতে চান হাকালুকির হাওরের অবস্থান ও কোন দিক দিয়ে হাওরে সহজে যাওয়া যায় ও বেড়ানো যায়। কিন্তু হাওরের অবস্থান ও বেড়ানো কিংবা যাওয়ার সহজ পথ ইত্যাদি জানান দিয়ে কোন সাইনবোর্ডই টানায়নি জেলাপ্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ বর্ষা মৌসুমে জেলার জুড়ী উপজেলার কন্টিনালা ব্রিজের পশ্চিমপাশ দিয়ে নৌকা যোগে ও শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে খুবসহজেই বিশাল হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা। শুধুমাত্র প্রচরণা না থাকায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন পর্যটক। জেলা জুড়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে সরকারও রাজস্ব পেত। আর কর্মসংস্থানও হত স্থানীয় মানুষের।
মৌলভীবাজার জেলার এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে বিবেচনা করে ২০০৮ সালের ১ জুলাই ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ রোড শো উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদী মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। অথচ পর্যটক আকর্ষণ,পর্যটকদের পথনির্দেশনা,নিরাপত্তা, থাকা ও বিনোদনের জন্য জেলা জুড়ে পরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। প্রতিবছর পর্যটন দিবস এলেই জেলা প্রসাশনের উদ্যোগে দ্বায়সার গোছরের আলোচনা ও র্যালীর মাধ্যমেই পালিত হয় দিবসটি। কিন্তু প্রতিবছরই দিবসটিকে উপলক্ষ্য করে যে আলোচনা হয় জেলার পর্যটন শিল্প অগ্রসর হওয়া নিয়ে তার নূন্যতম দৃশ্যমান কাজই হয়না। এমনটি অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। জেলার দু’একটি উপজেলায় কিছু হোটেল মোটেল ও রির্সোট হলেও তা হয়েছে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকটাই অপরিকল্পিত।
জেলার বিভিন্ন উপাজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিগত কয়েক বছর থেকে ভাঙ্গা রাস্তায় অবর্ণনীয় দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজনসহ দেশ বিদেশের পর্যটকরা। ভাঙ্গা রাস্তার কারনে যেমন চলাচলে কষ্ঠ হচ্ছে। তেমনি তাদের গুনতে হচ্ছে অধিক ভাড়াও। আর নষ্ট হচ্ছে অতিরিক্ত সময়। যার কারনে দর্শনার্থীরা সহজে জেলার আর্কষণীয় পর্যটন স্পট গুলো ঘুরে দেখতেও পারছেন না। পর্যটকরা একটি পর্যটন স্পটে গেলে অন্যটিতে যাওয়ার ইচ্ছা করছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ একাধিকবার দাবি তুললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তা মেরামতের জন্য কোনো উদ্যোগই নিচ্ছেন না। কয়েকজন পর্যটকদের সাথে এবিষয়ে কথা হলে তারা বলেন গেল কয়েক বছর থেকে মৌলভীবাজারের রাস্তা গুলো অনেকটাই চলাচলের অনুপোযোগী। সহজে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া যায়না। এজন্য অনেক পর্যটকরা আগের মত এখন ইচ্ছা থাকা সত্বেও ওখানে আসতে আগ্রহী হন না। তাদের দাবি যোগাযোগ ব্যবস্থা আরোও উন্নত হলে পর্যটকদের উপস্থিতি দিগুণ হারে বাড়বে।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কোর্সের কো-অডিনেটর প্রকৌশলী কাজী মেজবাহুল ইসলাম বলেন নিরাপত্তা জোরদার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও আবাসন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করলে অমিত সম্ভাবনাময়ী মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন শিল্পকে আরোও একধাপ এগিয়ে নেয়া সম্ভব। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজনীন শিরিন বলেন আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি সম্ভাবনাময়ী এজেলার পর্যটন শিল্প বিকাশে সর্বতœক প্রচেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.