স্টাফ রিপোর্টার॥ ভারসাম্যপূর্ন জনসংখ্যা গঠন করতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে । জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে সমাজ জীবনে এবং দেশে যে সর্বনাশা প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তা থেকে উত্তরনের কোন বিকল্প নেই । স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে শলা-মরামর্শ করে সঠিক সময়ে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহন করলে যে সকল সুবিধা ভোগ করতে পারেন আর তাহলো - দম্পতিগণ সীমিত সংখ্যক সন্তানের জন্ম দিয়ে পরিকল্পিত পরিবার গঠন করতে পারবেন, পরিবারে দারিদ্রতা হ্রাস পাবে ও চাহিদামত পুষ্ঠি পূরণ হবে, শিশুগণ উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবেন, স্বামী-স্ত্রীর শারিরীক ও মানসিক চাপ কমে যাবে, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সুখ শান্তি বৃদ্ধি পাবে সর্বোপরি মা ও শিশু মৃত্যু ঝুকি কমে যাবে ।
পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি কর্মসূচির সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণের নানা রকমের পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে খাবার বড়ি (পিল), কনডম, ইনজেকশন, ইমপ্ল্যান্ট, আইইউডি, ভ্যাসেকটমি (এনএসভি), টিউবেকটমি (লাইগেশন) পদ্ধতি। একেক পদ্ধতি একেক ধরনের কার্যকারিতা। দম্পতিগণ শারিরীক অবস্থা বিবেচনা করে এবং পদ্ধতির ধরন বুঝে তাদের পছন্দসই পদ্ধতি গ্রহন করে থাকেন ।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম সর্ম্পকে উপজেলার সহকারী পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ জাকির জানান সদর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক । অস্থায়ী পদ্ধতি খাবার বড়ি গহীতা ৩৯%, ইনজেকশন গ্রহীতা ১৫%, কনডম গ্রহীতা ৭%, স্থায়ী পদ্ধতি পুরুষ ও মহিলা মিলে গ্রহীতা ১২%, দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি গ্রহীতা ৮% । এপ্রসংগে তিনি বলেন দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী পদ্ধতি ইমপ্ল্যান্ট (৩ বছর থেকে ৫ বছর মেয়াদী) এবং আইইউডি/কপারটি (১০ বছর মেয়াদী) পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন স¦াস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে মাসে চারটি কওে ক্যাম্প করা হয় । ইমপ্ল্যান্ট শুধু মাত্র প্রজেস্টেরন হরমোন সমৃদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যা নারীদের বাহুতে চামড়ার নীচে স্থাপন করা হয় । অন্যদিকে কপারটি মহিলাদের জরায়ুতে স্থাপন করা হয় । ক্যাম্পে সদর উপজেলার একজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থেকে সেবা গ্রহীতাদের পরিবার পরিকল্পনার সেবা দিয়ে থাকেন ।
তিনি আরো বলেন আগের চেয়ে বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। আগামীতে এ পদ্ধতি আরো অনেক দম্পতিই গ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা জানাচ্ছেন, খাবার বড়ি খেলে ১/৪ দিন বড়জোর ৭ দিন গর্ভধারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিদিন খাবার বড়ি খাওয়া বা কনডম ব্যবহার করা অনেকের কাছেই ঝামেলার মনে হচ্ছে। তাছাড়া এক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। অনাকাংখিত গর্ভধারন থেকে বাঁচার জন্য অনেক দম্পতি ১৫ দিন বা ১ মাস আবার কেউবা কয়েক মাসের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির খোঁজ করেন। সে জায়গা থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সচেতনতাবৃদ্ধির পাশাপাশি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্যাটেলাইট ক্লিনিকগুলো পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে কাজ করছে দেশের কমিউনিটি রেডিওগুলো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র কমিউনিটি রেডিও “রেডিও পল্লীকন্ঠ ৯৯.২ এফএম” পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে নিয়মিত রেডিও টকস্, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সচেতনতা বিষয়ে প্রোমো বাজিয়ে থাকেন এবং বর্ণনা দিয়ে চলেছে পরিবার পরিকল্পনার সুফল সম্পর্কে। আর মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা এবং সঠিক তথ্য জানাতে সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ’্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজন করছে সামজিক সংলাপের । উল্লেখ্য যে, উক্ত কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে ডিএফআইডি এবং কারিগরী সহযোগিতা দিচ্ছে আইপাস বাংলাদেশ ও বিএনএনআরসি ।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.