
স্টাফ রিপোর্টার॥ বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে হঠাৎ প্রেমিকার অবস্থান এমন চাঞ্চ্যলের খবরে ওই বাড়িতে ভীড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের। উপস্থিতরা ওই মেয়ের মুখে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। প্রেমিকের বাড়িতে দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘন্টা অবস্থান করেন ওই প্রেমিকা। এরপর প্রেমিকের বাবা ও স্থানীয়দের আশ্বাসের ভিত্তিতে কলেজ পড়–য়া মেয়ে ওখান থেকে চলে আসেন।
জানা যায় ১৩ অক্টোবর রবিবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় প্রেমিক সজল মিয়ার বাড়িতে সোনিয়া আল মামুন নামের এক কলেজ ছাত্রী বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়। অবস্থানকারী কলেজ ছাত্রীর বাড়ি সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের গয়ঘর গ্রামে। সোনিয়া ও সজল মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। প্রেমিকা সোনিয়া আসছে এ খবর জেনে প্রেমিক সজল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা অবস্থান করছে খবর পেয়ে এলাকার বাসিন্দা, মিডিয়ার ও প্রশাসনের লোকজন ওই বাড়িতে উপস্থিত হন।
প্রেমিক সজল মিয়ার পিতা মোঃ রুহুল আমিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রথম দিকে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। প্রেমিকা সোনিয়া জানান রঘুনন্দনপুর এলাকার সজল মিয়া এর সাথে একসাথে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পড়ালেখা করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। তার সাথে সজলের দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সুবাদে সজল পবিত্র কোরআন শরিফের শপথ করে তাকে মৌখিক ভাবে বিয়ে করে। কয়েক বছর ধরে তার সাথে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আসছে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী মেয়েটি সামাজিক ভাবে তাকে ঘরে তোলার জন্য সজল মিয়া কে চাপ দেয়। সজল একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই মেয়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিছু দিন আগে মেয়েটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছেলেটিকে খোঁজ করে না পেয়ে একপর্যায়ে সজলের পরিবারকেও তাদের সম্পর্কের বিষয় অবগত করে। কিন্তু সজল ও তার পরিবার এবিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি। এমতাবস্থায় মেয়েটি কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরমধ্যে সজল তাকে ধোঁকা দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার জন্য পায়তারা শুরু করে। এমন খবরে মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। তখনই বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার সিন্ধান্ত নেয়। অনশনের সময় উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সকলকে প্রেমিকা কলেজ ছাত্রী জানান।
সে সময় কলেজ পড়–য়া ওই প্রেমিক ছেলের বাবা ও তাদের প্রতিবেশীরা মেয়েটিকে বিভিন্ন ভাবে হেনেস্তা করতে থাকেন এবং প্রশাসন ও মিডিয়ার লোকদের কে খবর দিয়েছে এমন প্রশ্ন ছুড়ে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এর মধ্যেই মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ আসার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে মেয়েটিকে ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিবেন এবং আজ রাতের ভিতরেই এর সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর আশ্বস্ত হয়ে ওই মেয়েটি প্রায় ৫ ঘন্টার অবস্থানের অবসান ঘটিয়ে চলে আসেন। মেয়েটি জানায় যে হেতু ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেছে তাই ওকে স্বামী হিসেবে না পেলে তার আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান এরকম আরেকটি ঘটনার নিষ্পত্তি করে দিয়েছি। ওই ঘটনা আমার জানা নেই। তবে আইনের আশ্রয় নিলে ও সঠিক প্রমাণাদি দিলে আমরা অবশ্যই মেয়েটিকে আইনি সহযোগিতা করব।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.