
আব্দুর রব॥ ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের সাথে প্রভাব খাটানো, জুয়ার আসরে চাঁদা দাবি,বিদ্যুতের সংযোগ নিতে চাঁদা দাবি। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন থেকে তার এমন অপকর্মে অতিষ্ট স্থানীয়রা। কিন্তু নানা স্থানে অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ারও অভিযোগ দূর্ভোগগ্রস্থদের। দিন দিন তার এমন ব্যপরোয়া আচরনে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা আতঙ্কিত। মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার কামিনীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়,জুড়ী তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী ইকবাল ভূইয়া উজ্জ্বল সম্প্রতি তার চাচা জাঙ্গীরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়।ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ করলে সে তার অনুসারী সামিম মোল্লা,মোহাইমিন,আলামিনসহ কলেজ ছাত্রলীগের তার অনুসারী ২০-২৫ জন ছেলে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীদের গালাগাল করে এবং বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী কামাল হোসেন ইকবাল ভূইয়া উজ্জলের বাবা কাইয়ূম ভূইয়াকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি উল্টো ব্যবসায়ীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন ও দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এবং এও বলেন আমার ছেলে ছাত্রলীগের নেতা। তোরা কিছুই করতে পারবি না। ইতিপূর্বে ইকবাল ভূইয়া উজ্জ্বল নিরোধ বিহারী স্কুল মাঠে পূজার সময় চলা জুয়ার আসরে চাঁদা দাবি করে, বন্যার সময় ত্রান বিতরনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রবীণ নেতার চেয়ার নিয়ে যাওয়াসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠে তার উপর। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়ে ব্যবসায়ী মর্তুজা আলী,জহিরুল ইসলাম,সিরাজুল ইসলাম বলেন,ভাই আমরা নিরীহ ব্যবসায়ী। ব্যবসা করে জীবন চালাই। কিন্তু এরকম সমস্যা করলে আমরা কিভাবে চলবো। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। উনারা তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি দেখবেন। এখনো তার অব্যাহত হুমকিতে আমরা আতঙ্কে আছি। গত ৭ নভেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী জহিরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাবরে এসব অপকর্মের প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। যার অনুলিপি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক বরাবরেও প্রেরণ করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী কামাল হোসেন বলেন শিক্ষক সমাজের দর্পন। তাই বলে একজন শিক্ষক ভূল করলে ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মী এসে হুমকি দিবে এটা কেমন কথা। এটা তো জুড়ীর ইতিহাসে অতীতে কখনো ঘটেনি। জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক ঘটনার বলেন,ব্যবসায়ীদের সাথে প্রধান শিক্ষকের সমস্যা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুব আলম জানান আমি এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।এসব ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ইকবাল ভূইয়া উজ্জ্বলের কাছে তার বিরুদ্ধে উঠা একাধীক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এসব ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।


সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.