সাইফুল্লাহ হাসান॥ নাম তার শিউলি। অনেকে শেফালি নামেও চেনেন। সন্ধ্যার পরপরই ফুলটি প্রস্ফুটিত হয়ে সারা রাত আশপাশ সুবাসিত করে। রাতের আঁধারে নিজের রূপ পুরোটা ছড়িয়ে, বাতাসে বিলিয়ে দেয় নেশা লাগানো সুবাস। আর ভোরের আলো ফুটলেই বেদনা বুকে নিয়ে ঝরে পড়ে সাদা-কমলা গালিচা তৈরি করে।
শিউলি ফুলের সৌন্দর্য আর মিষ্টি ঘ্রাণ ব্যক্তিগত বাগান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্মুক্ত স্থান ও বসতবাড়ির আঙিনা মাতিয়ে রাখে। সকালে শিশিরমাখা শিউলি ফুল দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। শিউলি মূলত শরতেরই ফুল। তবে শিউলির শোভা ও সৌরভ থেকে হেমন্তও বঞ্চিত নয় ।
মৌলভীবাজার শহরের অনেকের বাসাবাড়িতে, রাস্তাঘাটে দ-ায়মান দেখা যায় এই শিউলি ফুলের গাছ। পাতায় ভরা গাছ থাকলে যতটা না সুন্দর লাগে দেখতে, তার চেয়েও অনেক বেশি নজরকাড়া হয়, গাছে যখন শিউলি ফুল ফোটে।
শহরের বনশ্রী এলাকায় তেমনই একটি ফুলভরা শিউলি গাছ দেখা যায়। প্রতিদিন গাছের তলায় শতশত শশিউলির আগমন ঘটে। ভোরে অনেকে আসেন এই ফুলের সুভাস নিতে। কেউ ফুলগুলো কুড়িয়ে দুই হাতে করে সুগন্ধ নিচ্ছে। আবার কেউ এগুলো সংরক্ষণ করে বাসায় নিয়ে যাচছেন। কেউ বা আবার, মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ফুলগুলোর ছবি তুলতে ব্যস্ত।
কথা হয় এখানকার বাসিন্দা রাকিব রাহমানের সাথে। তিনি বলেন, পাশেই আমার বাসা। প্রতিদিন ফজরের পরপরই একটু হাঁটাহাঁটি করি। সাথে শিউলি গাছের যেরুপ ভাবে শিউলি ফুল রাতে ফুটে এবং সকালে তা ঝরে ঝায়। আবার কিছু সময় পর আর সেই ফুলের সৌরভ থাকে না, ঠিক তদ্রূপ ভাবে মানুষের গৌরবও চিরকাল স্থায়ী থাকবে না।
শিউলি মূলত শরৎ ঋতুর ফুল। তবে বছরের অন্য ঋতুতেও গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়। ফুল ছোট, সুগন্ধযুক্ত। কোমল এ ফুলে ছয়টি পাপড়ি থাকে, পাপড়ির রঙ সাদা হলেও বোঁটার অংশ কমলা রঙের এবং পাপড়ির সংযোগ স্থল বৃত্তাকার কমলা রঙে বিস্তৃত থাকে। রাতের রাণী বলে খ্যাত শিউলি ফুল রাতের বেলা ফোটে এবং সকালে ঝরে পড়ে। ভোরে শিউলি গাছের তলা সাদা ফুলে ফুলে ভরে যায়। গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এই ফুল দিয়ে মালা বানিয়ে গলায় পরে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.