
বিকুল চক্রবর্তী॥ দেশে পিয়াজের মুল্যবৃদ্ধিতে স্বল্প পরিশ্রমে প্রত্যেকের ঘরেই প্রয়োজনীয় পেয়াজ চাষের ফরমুলা তৈরী করেছেন মৌলভীবাজারের আবুল ফজল। এ ফরমুলার সফলতা পেয়ে পাড়া প্রতিবেশী ডেকে সবাইকে এ পদ্ধতি বলে দেন।
আবুল ফজল জানান, পেয়াজের মুল্যবৃদ্ধিতে দেশব্যাপী এক শ্রেণীর মানুষ শুরু করেছেন হৈ হাল্লা, সুবিধা নিচ্ছে সুবিধাভোগীরা। কিন্তু এ চক্রকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখানোর এক মাত্র উপায় প্রত্যেকে নিজে নিজে উৎপাদন করা। আর যাদের নিজের জমিনেই তাদের জন্য তিনি একটি ফরমুলা তৈরী করেছেন। তিনি পরিত্যাক্ত পানি বা তৈলের বড় প্লাস্টিকের বোতলের গায়ে মাটি ভরে চার দিকে পিয়াজ পুঁতে এবং পেয়াজ পুঁতা অংশে বোতলের গা ছিদ্র করে দিয়েছেন। এক সাপ্তাহের মধ্যে সে ছিদ্র গুলো দিয়ে পেয়াজের পাতা বের হতে শুরু করেছে।
তিনি জানান, এ পদ্ধতিতে বাসার ছাঁদে, খোলা বারান্দায় কয়েকটা প্লাস্টিকের কন্টেইনারে বা বোতলে তা চাষ করা যেতে পারে। এতে পুরো মৌসুম পেয়াজের পাতা খাওয়া যাবে এবং প্রতিকেজি পেয়াজ থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি করে পেয়াজও পাওয়া যাবে। হারবেস্টিং এর সময় লাগবে ৬০ থেকে ৭০ দিন। তিনি জানান, বাজার থেকে বার্মিজ পেয়াজ কিনে প্রতিটি পেয়াবের পেটে কেটে দু ভাগ করে প্লাস্টিকের বোতলে মাটি ভরে তাতে তা রোপন করেন। ৭ দিনের মাথায় পাতা বের হতে থাকে। ইতিমধ্যে তিনি এর থেকে পাতা তুলে খেতেও শুরু করেছেন। তিনি জানান তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনেই সরকারী চাকুরী করেন। থাকেন মৌলভীবাজার শহরে সোনা পুর বড় বাড়ী খাজা ভিলায়।
তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, তারা স্বামী স্ত্রী দুজনেই সরকারী চাকুরী করেন। তাদের হাতে সময় খুব কম। তার স্বামী গাছ গুলো রোপন করে দেয়ার পর তাদের এক আত্মীয় ৭ম শ্রেণীর ছাত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মোছাব্বিরই এর পরিচর্যা করে ।
আবুল ফজল আরো জানান, পেয়াজ চাষে খুব পরিশ্রম হয়না। অল্প পানি দিলেই চলে। অনান্য ফসলের মতো পেয়াজে এতো পানির প্রয়োজন হয়না। এক কেজি পেয়াজ কিনে মধ্যে কেটে তা দ্বিগুন করেন। একটি পেয়াজ থেকে সাধারণত দুটি পেয়াজ বের হয়ই। অনেক ক্ষেত্রে ৩/৪টি করে বের হয়। সে হিসেবে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত পেয়াজ উৎপাদন হবে।
এ সময় তাঁর ছাঁদে পেয়াজ চাষ দেখতে আসা প্রতিবেশী লেখক ও গবেষক দীপংকর মোহান্ত জানান, এ পদ্ধতিতে আমরা শুধু পেয়াজ নয় নিত্য প্রয়োজনীয় মরিছ ও বিভিন্ন সবজীও চাষ করতে পারি। যা একটি পরিবারের অন্তত কিছু দিনের যোগান দিবে।
দেখতে আসা শিক্ষিকা চৈতালী চক্রবর্তী জানান, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এ সহজ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিলে পিয়াজ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবার গুলোর অর্থনৈকি ভাবেও সাশ্রয়ী হতে পারবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.