
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ হাঁড় কাপানো প্রচন্ড শীত নিবারণের জন্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা শ্রমিক ও দু:স্থ অসহায় পরিবারের শীতার্তদের মাঝে ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারি ত্রাণের কম্বল বিতরণ করছেন জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ ড.মো.আব্দুস শহীদ এমপি।
২২ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত উপজেলার মাধবপুর,পাত্রখোলা ধলাই,মদনমোহনপুর,শ্রীগোবিন্দপুর,চাবাগানে শ্রমিকদের ও মুন্সিবাজার শব্দকর পাড়ায় গরীব দু:স্থদের মাঝে আড়াইশতাধিক কম্বল বিতরণ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক,পিআইও মো.আছাদুজ্জামান,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আসলম ইকবালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক মুঠোফোনে বলেন,কমলগঞ্জ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশী কম্বল শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অসহায় দুস্থ:দের মাঝে সরকারি কম্বল বিতরণ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য প্রচন্ড ঠান্ডায় গত শুক্র ও শনিবারে দু’দিনে শমশেরনগর ইউনিয়নের কানিহাটি, ডবলছড়া চা বাগানের নারীসহ বয়োবৃদ্ধ ৪জন ও আলীনগর ইউনিয়নের কামুদপুর আশ্রায়ন প্রকল্পের ১ বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল ১০ টায় ডবলছড়া বাগানের রাজেন্দ্র তুলিয়ার স্ত্রী বুলেশ্বরী তুলিয়া (৬০) এবং সকাল ১১ টায় কানিহাটি চা বাগানের মিরা বীন এর ছেলে হরিয়া বীন (৬০) মারা যান। এদিন ভোরে আলীনগর ইউনিয়নের কামুদপুর আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দা আঞ্জব আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটে। এদিকে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ডবলছড়া ফাঁড়ি চা বাগানের সুবল চাষার ছেলে রাখাল চাষা (৪৬), আপ্পালু কুর্মীর স্ত্রী গাংগামা কুর্মী (৬০) মারা যান।
কুয়াশার সাথে প্রচন্ড ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে নিম্নআয়ের মানুষেরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। খড়খুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন চা বাগান ও বস্তির নিম্নআয়ের মানুষজন। ঠান্ডায় সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ঠ ও নিউমোনিয়া রোগের উপদ্রব বাড়ছে।
সরেজমিন চা বাগানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশা, ঠান্ড বাতাসে নিম্নবিত্ত পরিবার সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছেন। খড়খুটো জ্বালিয়ে তারা শীত নিবারণ করছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.