
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হিলালপুর এলাকায় পূর্বের শত্রুতার জের ধরে রাজন আহমদ রাজা (৩২) নামের এক যুবককে রাস্তা থেকে ধরে বাড়িতে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায় সকাল ৯ টার দিকে উঠতি সন্ত্রাসী গ্রুপ পীর বাহিনীর প্রধান নামে পরিচিত পীর আজাদ পার্শ্ববর্তী বালিকান্দি খেয়াঘাট থেকে রাজনকে অপহরণ করে হিলালপুরস্থ পীর আজাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। এ সময় পীর আজাদ ও তার সহযোগীরা ধারালো আস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তাকে। হত্যার পর একটি সিএনজি অটো রিক্সায় রাজনের মরদেহ তোলে মৌলভীবাজার সদর হাসপালে পাঠিয়ে পীর আজাদ বাড়ি তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান নিহত রাজন পীর আজাদের ছোট ভাই রুবেল হত্যার এজহারভুক্ত ৮নং আসামী। বর্তমানে সে জামিনে ছিল। রাজন সদর উপজেলার বুদ্ধিমন্তপুর এলাকার আশিক মিয়ার ছেলে। এঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়ন রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই হত্যা কান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কে সেই আলোচিত পীর আজাদ
মৌলভীবাজার শহরের এখন আলোচিত নাম ‘পীর’। কে সে? এখন সেই প্রশ্ন শহর জুড়ে মানুষের মুখে মুখে। জানা যায় বড়হাট,কুসুমভাগ ও হিলালপুর এলাকার উঠতি বয়সী সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধান হিসেবে আতংঙ্কের নাম এই পীর আজাদ।
মঙ্গলবার রাজন আহমদ রাজা খুন হওয়ার পর আবারো নতুন করে তার অপকর্মের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। গেল বছর মৌলভীবাজার শহরে উঠতি সন্ত্রাসী গণপিটুনিতে রুবেল নিহত হওয়ার পরই মূলত আলোচনায় আসে এই ‘আজাদ পীর’। সে ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও নিহত রুবেলের বড় ভাই। মূলত আজাদের সাথে বাবুল নামের একজনে দ্বন্দ্বের কারণেই বলির পাঁঠা হয় রুবেল। তার ভাই রুবেল পীর আজাদ বাহিনীর সেকেন্ট ইন কমান্ড ছিল।
জানা যায় আজাদ হোসেন পীর মৌলভীবাজার শহরতলীর হিলালপুর এলাকায় বসবাস করে। তার পিতা মৃত ছৈইদুল্লাহ। আজাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ। রয়েছে মারামারি, চুরি, ছিনতাই, মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা, ডাকাতি, নারী নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ। এমনকি মৌলভীবাজার মডেল থানায় আজাদ হোসের পীর এর বিরুদ্ধে গেল বছরের মে মাস পর্যন্ত ১০ থেকে ১২টি পৃথক পৃথক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও থানায় তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
মৌলভীবাজার মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গেল বছর ২৮ জানুয়ারি খুনের উদ্দ্যেশ্যে মারামারির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। এফ.আই.আর নং: ৩৬/৩৬, জি.আর নং-৩৬/১৯। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এ সে এজাহারভুক্ত। ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি মাদক ও ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। এফ.আই.আর নং: ৩৪/৩৪, জি.আর নং-৩৪/১৯। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) এর ১০ (ক) ধারায় তিনি এজাহারভুক্ত।
২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর মৌলভীবাজার মডেল থানায় গুরুত্বর জখম করে ডাকাতির অপরাধে আরেকটি মামলা হয়। এফ.আই.আর নং: ২৪/৩২৪, জি.আর নং-৩২৪/১৭। ধারা ৩৯৪ পেনাল কোড- ১৮৬০ অনুযায়ী এই মামলায় তিনি অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত এবং তদন্তেও অভিযুক্ত। ওই বছরের ২৫ এপ্রিল খুন করার উদ্দ্যেশ্যে মারামারি অপরাধে একটি মামলা দায়ের হয়। এফ.আই.আর নং: ২০, জি.আর নং-১২৩/১৭। ধারা ৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ পেনাল কোড- ১৮৬০এ এই মামলায় তিনি এজাহারে সন্দিগ্ধ। পরের বছর ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। এফ.আই.আর নং: ৩১, জি.আর নং-২৮১/১৬। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭/৩০ ধারায় তিনি এজাহারভুক্ত।
১৭ সালের ৬ মে মৌলভীবাজার মডেল থানায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের আরোও একটি মামলা রয়েছে। এফ.আই.আর নং: ৮/১৩৭, জি.আর নং-১৩৭/১৭। আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ আইনের ৪ ধারায় তিনি মামলার এজাহারে অভিযুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি তার একটি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে বিভিন্ন সময় ওদের নিয়ে সে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হয়। আজাদ বাহিনীর কারনে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করারও সাহস পায় না। গেল বছরের মে মাসে তার ভাই সন্ত্রাসী রুবেল নিহত হওয়ার পরও এক টমটম চালককে আটক করে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই গাড়ি চালক। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে নির্যাতনে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। শহরের কুসুমবাগ এলাকার ব্যবসায়ী ও সিএনজি চালকরা তার বাহিনীর কারণে সব-সময় আতঙ্কে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী ও চালক এবিষয়টি নিশ্চিত করেন। সরেজমিনে আজাদ হোসেন পীরের হিলালপুর বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। রাজন হোসেন রাজা খুন হওয়ার পর থেকে সে গা ঢাকা দিয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.