
ইমাদ উদ দীন॥ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দেওয়া নির্দেশনা কোয়ারেন্টাইন লঙঘনের অপরাধে মৌলভীবাজারে তিন জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার ১৮ মার্চ দুপুরে মৌলভীবাজার শহরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই অর্থদন্ড প্রদান করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন। তিনি জানান শাস্তিপ্রাপ্তরা যাতে সামাজিক ভাবে হয়রানির শিকার না সে জন্য নাম ও পরিচয় আমরা গোপন করছি। ওই তিন জনকে ৫হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকার ঘোষিত কোয়ারান্টাইন লঙ্ঘনের অপরাধে ৩ জনকে অথদন্ড আরোপ করা হয়েছে। সবার স্বার্থে দয়া করে কেউ কোয়ারান্টাইন লঙ্ঘন করবেন না। প্রতিদিনই বাড়ছে কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীর সংখ্যা। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও সতর্কতায় বুধবার পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ১৫১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা নির্দেশনা দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলার কুলাউড়া, বড়লেখা, জুড়ী, রাজনগর,মৌলভীবাজার সদর ,কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ইতালি,আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এ ১৫১ জন প্রবাসী দেশে এসেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির।
তিনি জানান হোম কোয়ারেন্টাইনে যাদের রাখা হয়েছে তারা ইতালি, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য ফেরত। এর মধ্যে কুলাউড়ায় ২৪ জন, বড়লেখায় ১৭ জন, কমলগঞ্জে ৩৭ জন, সদরে ১০ জন, জুড়ীতে ১৩ জন, রাজনগরে ৯ জন এবং শ্রীঙ্গলে ৪১ জন। তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। যেহেতু করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে এসেছেন তাই বাড়তি সর্তকতার জন্য তাদের নিজ বাসা-বাড়িতে ১৪ দিন সেলফ কোয়ারেন্টাইনে মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে। এটা করোনা নিয়ে সরকারের আইন। এরমধ্যে সমস্যা দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল তাদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন। করোনাভাইরাস পজিটিভ হলে চিকিৎসা দেওয়া হবে। লক্ষণ না পাওয়া গেলে ১৪ দিন পর তারা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করতে পারবেন। এদিকে অভিযোগ রয়েছে মৌলভীবাজারে যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের অনেকেই কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মানছেন না।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. তউহীদ আহমদ বলেন-মৌলভীবাজারে জেলায় এপর্যন্ত ১৫১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। উনারা বেশির ভাগই বিদেশ ফেরত, কয়েকজন উনাদের নিকট আত্মীয় ও রয়েছেন যারা উনাদের সংস্পর্শে ছিলেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। আমরা মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছি। আমরা সংবাদের মাধ্যেম সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, কাজ ছাড়া বাইরে বের হবেন না, ভীর এড়িয়ে চলুন। করোনা প্রতিরোধ সরকারী নির্দেশনা মেনে চলুন। তিনি বলেন আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এরপরেও এমন কেউ থাকলে তথ্য পাওয়া মাত্র আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। কারন একজনের কারনে অন্য সবার ক্ষতি হউক এমনটি হতে পারেনা। গুজবে কান না দিতেও পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন। তিনি বলেন ‘আমাদের সকলের সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে করোনামুক্ত রাখতে। উল্লেখ্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১১৬টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় করোনা আক্রান্ত পাওয়া গেলে চিকিৎসা দেয়া হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.