
জুড়ী প্রতিনিধি॥ করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। এখনও এ ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্যমতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পারলেই এ ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
সে লক্ষ্যে ভাইরাস আক্রান্ত সকল দেশেই ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। বাংলাদেশেও অঘোষিত লকডাউন চলছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হাটবাজার, দোকানপাট বন্ধ করা হয়েছে।
জুুড়ী উপজেলায় প্রশাসনের জোরালো ভূমিকায় শহরের লোকজন আইন মেনে চললেও গ্রামের বাজার ও দোকান গুলোতে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গ্রামের দোকানে প্রচুর লোক আড্ডায় মেতে ওঠেন। এমতাবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সচেতন লোকজন এগিয়ে আসেন। নিজেদের সুরক্ষার জন্য নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামকে লকডাউন ঘোষণা করেন।
সোমবার ৫ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামকে লকডাউন করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া গ্রামে প্রবেশ ও বাহির নিষিদ্ধ করেন। সেই সাথে গ্রামের প্রবেশপথ বন্ধ করে বসানো হয় পাহারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুুকে এ খবর প্রচার হলে উপজেলার অন্যান্য গ্রামের লোকজনও এগিয়ে আসেন। রাতেই একের পর এক পশ্চিম বড়ধামাই, বাছিরপুর, পাতিলাসাঙ্গন, মাধবটিলা, সমাই বাজার, জাঙ্গালিয়া, দ্বহপাড়া, পূর্বগোয়ালবাড়ী ও পশ্চিম ভোগতেরা গ্রামকে নিজেরা লকডাউন ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার এবং ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম পরিদর্শন করেন। এসময় ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার এলাকাবাসীকে ও স্বেচ্ছায় লকডাউন করা সকল এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান ও এরকম জুড়ী উপজেলার সকল গ্রাম নিজ নিজ উদ্যোগে লকডাউন করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পারলেই এ ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.