আব্দুর রব॥ জুড়ীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারী নানা পদক্ষেপে অন্যান্য পেশাজীবিদের মতো হিজরাদের জীবনেও চরম দুর্দিন দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় যানবাহনসহ সকল হোটেলগুলো বন্ধ রয়েছে। কারণ যানবাহন, হোটেলগুলো ও পথচারীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে তারা জীবন চালায়। বর্তমানে ওই সকল হিজরা (তৃতীয় লিঙ্গ) আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অনাহারে -অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। কেউ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। শনিবার দুপুরে পেটের যন্ত্রণায় ওই তৃতীয় লিঙ্গরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনে তার খোঁজে যান। সেখানে গিয়ে তাকে পাননি। ইউএনও তখন অফিসিয়াল কাজে শহরের বাইরে ছিলেন। পরে বাসভবনে এসে তৃতীয় লিঙ্গদের দেখতে পান। তখন তারা জানায়, স্যার আমরা কি সরকারি কোন সহযোগিতা পাবো না, আমরা কি এত অবহেলিত। আমরা হিজড়া বলে আমাদের দিকে কেউ ফিরে তাকায় না। তখন ইউএনও জানান, অবশ্যই তোমরা সরকারি সহযোগিতা পাবে। অবশেষে সেইসকল তৃতীয় লিঙ্গদের কথা শুনে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বনিক। শনিবার বিকেলে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়ন প্রাঙ্গণে জুড়ীতে বসবাসকারী তৃতীয় লিঙ্গদের মধ্যে জনপ্রতি ১০ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৫৫০টি কর্মহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সাড়ে ছয়শত পরিবহণ শ্রমিকও রয়েছেন। খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুক, আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হিজড়া দলনেতা বাচ্চু জানান, সরকার চিড়িয়াখানার জীব জন্তুর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে থাকলেও আমাদের জন্য রয়েছে উদাসীন। আজকের এ খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় আমরা ইউএনও স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। পাশাপাশি জুড়ীতে বসবাসকারী অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গদের মানুষের মধ্যেও সহায়তা প্রদান করছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.