
তোফায়েল পাপ্পু॥ নিজেদের প্রয়োজনে নিজেরাই রাস্তা সংস্কার করলো এলাকাবাসী। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মোহাজেরাবাদ দক্ষিণ পাড়ার এলাকাবাসী। একটু বৃষ্টি হলেই মোহাজেরাবাদ দক্ষিণপাড়া হতে নন্দরানী চা বাগান সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় দুই কি.মি রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাঁদার সৃষ্টি হয়। যানবাহনসহ মানুষ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
এতে এলাকার মানুষের অসুবিধা দেখে শনিবার ২০ জুন সকালে মহল্লার বাগান ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়ার উদ্যোগে এস.এম জহির, সেলিম মিয়া, ফজর আলী, মারুফ আলীসহ কয়েকজন যুবকরা মিলে স্বেচ্ছায় এ রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন। তারা জানান পুরো রাস্তায় যেসব জায়গায় খানা খন্দ ও পানি জমে কাঁদার সৃষ্টি হয় সেইসব স্থান সংস্কার করতে সপ্তাহ খানিক সময় লাগবে।
ইদ্রিস মিয়া জানান, এই রাস্তা দিয়ে ৫টি বাগানের লোকজন যাওয়া আসা করে। দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে এ মহল্লার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই ! মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মহল্লার কয়েকজন নিজেদের অর্থায়নে এবং মহল্লাবাসীর সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কার কাজে অংশ নেন।
মহল্লাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বর্ষার সময়ে আমরা এই রস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সরকারিভাবে এই রাস্তা সংস্কারে কোন বরাদ্দও হয়নি। উক্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মৌখিকভাবে জানানোর পর অস্থায়ীভাবে মাঝে মাঝে ঢিলে ঢালাভাবে সংস্কার করলেও তা কোন উপকারে আসেসি। এ বিষয়ে তারা স্থায়ী কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
আশিদ্রোণ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মো. ফারুক মিয়া জানান, রাস্তাটি এখানকার মানুষের যাতায়াতের জান্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বাগানের লেবু ও আনারস এই রাস্তা ব্যবহার করে শহরে নেয়া হয়। স্কুল, কলেজ পড়ুয়া প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। ৫ এলাকার লোকজন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এই রাস্তা পাকা করার ব্যপারে উপজেলায় আবেদন করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সরেজমিন এসে দেখে গিয়েছেন এবং তিনি ম্যাপ করে নিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমরা কোন সুরহা হয়নি। রাস্তাটির ব্যপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।
এব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি অফিসার (সিভিল সার্ভেয়ার ডিপ্লোমা) সঞ্জয় কুমার পন্ডিত জানান, এখনও পর্যন্ত রাস্তাটির ব্যপারে সরকারি কোন বরাদ্দ আসেনি। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। সরকারি বরাদ্দ হলে রাস্তাটির কার্যক্রম শুরু হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.