স্টাফ রিপোর্টার॥ নির্বিঘ্ন রেল চলাচলের নামে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ২৫ হাজারেরও অধিক গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। আমরা বহুবছর ধরেই বনভূমি উজাড়ের কথা শুনে আসছি। পরিবেশ ধংসের কথা শুনছি অনেককাল ধরেই। পরিবেশের এমন বিপর্যয় জলবায়ূ পরিবর্তনের মতো নতুন দুর্ভোগের জন্ম দিয়েছে। এমন একটা সময়ে একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার উদ্যোগ আমাদের বিস্মিত, উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত করেছে। করেছে বিক্ষুব্ধ। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ বর্ষাতি-বনভূমি। এটা শুধু এই দেশেরই সম্পদ না। অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য এটি বিশ্বেরও সম্পদ। যেখানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কুঠার চালানোর কথা ভাবারই সুযোগ নেই। সেখানে রেলওয়ের এমন তৎপরতা পরিবেশের জন্য বড় এক হুমকি হয়ে ওঠেছে।
আমরা এই তৎপরতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও নিন্দা জানাই। আমাদের চোখের সামনেই রেলওয়ের অপার সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা হয়েছে। রেলওয়ের অগ্রগতির খুব সামান্যই আমরা দেখতে পাই। রেলওয়ের উন্নয়ন করতে চাইলে বাধা দেবার কোনো কারণ নেই। কিন্তু সেটা কোনোভোবেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানকে ক্ষত-বিক্ষত করে নয়। প্রয়োজনে বিকল্প স্থান দিয়ে ট্রেন লাইনের কথা ভাবতে হবে।
আমাদের সাফ কথা লাউয়াছড়াতে কুঠার চালানো যাবে না। পরিবেশ-ঐতিহ্যের অংশ অনেককিছুই আমরা রক্ষা করতে পারিনি। অন্তত যেটুকু আছে, তা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। লাউয়াছড়ার গাছ কাটার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। আমাদের নিঃশ্বাসের এই বনভূমির কোনো ক্ষতি আমরা মেনে নিতে পারি না, মেনে নিব না।
এছাড়া লাউয়াছড়ার বাইরে রেল লাইন স্থানান্তর। গাছ চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ সড়ক পথটি রাত্রিকালীন বন্ধ রাখা ও বন্যপ্রাণির খাদ্যসংকট দূর করার দাবী জানান তারা।
বিবৃতিদাতা কবিরা হলেন- কবি জাহাঙ্গীর জয়েস, কবি সুনীল শৈশব, কবি জয়নাল আবেদীন শিবু, কবি মুজাহিদ আহমদ, কবি আহমদ আফরোজ, কবি জাবেদ ভূঁইয়া, অপূর্ব সোহাগ, কবি ইভান অরক্ষিত, কবি সাকী সায়ন্ত।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.