
তোফায়েল পাপ্পু॥ এক দশক আগেও রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলেই শঙ্কা জেঁকে বসত স্বজনদের মনে, কোথায় মিলবে রক্ত। উপায়ন্তর না দেখে অনেকেই ধরনা দিতেন পেশাদার রক্তাদাতাদের কাছে। টাকা দিয়ে কেনা রক্ত রোগীর শরীরে দিয়ে সাময়িক প্রয়োজন মিটলেও ভর করত আরেক দুশ্চিন্তা। রোগ সারাতে আরেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে না তো? আশার কথা, রক্ত নিয়ে দুশ্চিন্তার সময় এখন অতীত। রক্তদাতা একদল তরুণ সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন একটি আহ্বানের, একজন মুমূর্ষ রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন। খবর পেলেই ছুট। রোগীর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে।
মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে জীবন বাচাঁতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রক্তদাতারা মানুষের পাশে থাকতে গড়ে তুলেছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। রক্তদানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা ছুটে বেড়ান মানুষের জীবন বাঁচাতে। এমনও হয়েছে রোগীর নাম জানেন না, রক্ত দিয়ে চলে এসেছেন। এ রকম একটি সংগঠন ‘ব্লাড ম্যান শ্রীমঙ্গল’।
নিজেদের বন্ধু-বান্ধব আর প্রতিবেশী কয়েকজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে কয়েক হাজার রক্তদাতা রয়েছেন সংগঠনে। তাদের তথ্যমতে ২০১৫ সালে শুরু হয় সংগঠনের যাত্রা। দীর্ঘ ৬ বছরে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন প্রায় ১০ হাজার রক্তদাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন তাদের সংগঠনে।
রক্ত দিতে মানুষকে উৎসাহিত করা, রক্ত দিতে সাহস যোগাতে মানুষকে আরও উদ্বুদ্ব করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রক্তের জন্য তাদের ফোন করলে রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী রক্তদাতা গিয়ে রক্ত দিয়ে আসেন।
২০১৫ সালে ধীরে ধীরে এগিয়ে ২০২১ সালে ১০ হাজার রক্তদাতা সদস্যের একটি বিশাল পরিবারে পরিণত হয়। সংগঠনের কার্যক্রম সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করার জন্য একটি দিক নির্দেশনামূলক কমিটির প্রয়োজনীয়তার অনুভবে সকল সদস্যের সম্মতিতে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি পূর্নাঙ্গ কমিটি হিসেবে পরিপূর্ণ করা হয়। বৃহস্পতিবার ২৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে “ব্লাডম্যান শ্রীমঙ্গল” এর সদস্য সচিব মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু দুই বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন ভূইয়া জানান গড়ে প্রতিমাসে রক্ত দেন কমপক্ষে ২৫-৩০ ব্যাগ। রক্তদান করা ছাড়াও শীতবস্ত্র বিতরণ, ব্লাড গ্রুপিং, রক্তদানে উৎসাহিত করা, বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যা¤েপইন, অসহায় রোগীদের সাহায্য করা ও বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণের কাজ করে থাকেন তারা।
সংগঠনের সভাপতি মুহিবুর রহমান জানান, বিগত ছয় বছওে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশী রোগীকে রক্ত দিয়েছেন তাদের সংগঠনের রক্তদাতারে মাধ্যমে। সংগঠনটির সকল সদস্য মানবতার সেবায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে সমাজের বিভিন্ন মানুষের জন্য মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। শুধু তাই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দূর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে মানবতার সেবায় আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.