
বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গল সবুজবাগ এলাকার শহীদ অপূর্ব চক্রবর্তীর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা অরিন্দম চক্রবর্তী মারা গেছেন। ১৭ জুন লন্ডনের একটি হাসপতালে মারা গেলে তার লাশ রাখা হয় হিমঘরে। ৯দিন পর ২৬ জুন শনিবার বিকেলে লন্ডনের লুটনে তাঁর দাহকার্য সম্পন্ন হয়।
অরিন্দম স্ত্রী নীতিকনা চক্রবর্তী লন্ডন থেকে মোঠোফনে জানান, বার্ধ্যক্যজনিত কারনে গত ১৭ জুন লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তাঁর স্বামী মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি জানান, তাদের কোন সন্তান না থাকায় এবং তিনি নিজেও অসুস্থ থাকায় হিমঘরে রেখে ৯দিন পর ইংল্যান্ড সরকারের সহায়তায় শনিবার বিকেলে সৎকার করা হয়।
শ্রীমঙ্গল সবুজবাগস্থ অরিন্দম চক্রবর্তীর আত্মীয় দীপক চক্রবর্তী জানান, অরিন্দম চক্রবর্তীর মুল বাড়ি রাজনগরের বালিসহস্র গ্রামে। তার পিতা কমলগঞ্জের নুরজাহান চা বাগানে প্রধান চিকিৎসক ছিলেন। অরিন্দম চক্রবর্তী মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার খবর পেয়ে রাজাকাররা অরিন্দম চক্রবর্তীর বাবা অপূর্ব চক্রবর্তী ও ভাই অনুপম চক্রবর্তীকে পাকবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পাকসেনারা শ্রীমঙ্গল ডুলুছড়ার নির্জন এলাকায় নিয়ে তাদের গুলি করে হত্যা করে। তিনি জানান, অরিন্দম চক্রবর্তী ভারতের দেরাদোনে যুদ্ধের প্রশিক্ষন নেন। যুদ্ধ শেষে দেশে এসে জানেন তিনি মুক্তিযু্দ্েধ যাওয়ায় রাজাকাররা তার বাবা ও ভাইকে হত্যা করে। দেশ স্বাধীনের পর অরিন্দম চক্রবর্তী ঘোড়াশাল সার কারখানায় চাকুরী নেন। সেখানে কয়েক বছর চাকুরী করার পর লন্ডনে চলে যান। লন্ডন থাকাবস্থায় তিনি শ্রীমঙ্গল সবুজবাগে বাড়ি করেন।
অরিন্দম চক্রবর্তীর স্ত্রী জানান, তার স্বামী একজন দেরাদোন প্রশিক্ষন প্রাপ্ত যোদ্ধা। মুজীব বাহিনী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব স্বাক্ষরিত সনদ রয়েছে। কিন্তু দেশে না আসায় এবং আবেদন না করায় তাঁর গেজেট করা হয়নি। মরার কিছুদিন আগে তিনি দেশে এসে মুক্তিযুদ্ধের স্ব পক্ষে তার সমস্ত ডকুমেন্ট গুলো জমা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু শেষ ইচ্ছা পুরণ হলো না।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.