ইউটিউব দেখে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল বরই চাষ ভাগ্য বদল প্রবাসী সালামের

December 26, 2021,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ অস্টলিয়ান বল সুন্দরী আপেল কুল বরই চাষ করে ভাগ্য বদল প্রবাসীর। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিদেশ ফেরত আব্দুস সালামের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। ইউটিউব দেখে উৎসাহিত হয়ে মেহের পুর জেলা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ১৬০টি চারা কুড়িয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আনেন। পরে ১০টি চারা মারা যায়,তারপর ১৫০টি ছাড়া নিয়ে আব্দুস সালাম তার বাড়ির পাশে পৈতৃক ২৫ শতাংশ জমিতে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল কুল বরই চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ৮ মাসের মাথায় সবকটি গাছেই কুল ধরে আছে। বরই চাষে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখন প্রতি সপ্তাহে অনলাইনে বড়ই বিক্রয় করেন ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার। দিন যতোই যাচ্ছে থতই চাহিদা বাড়ছে। তার এই বরই বাগান দেখে আগ্রহী হচ্ছে উপজেলার অনেক ছাত্র ছাত্রী, যুবক ও কৃষকেরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩০হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ শতাংশ জমিতে বরই বাগান করেছেন আব্দুস সালাম। এই মৌসুমে তার বাগানের প্রতিটি গাছে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপলে কুল ছেয়ে আছে। ফলের ভারে গাছসহ ডালগুলো নিচের দিকে ঝুলে পড়েছে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা হয়েছে প্রতিটি গাছ। পাখি ও চুরের হাত থেকে বরই রক্ষায় পুরো বাগান চারপাশে জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য বাগানের এক পাশে উঁচু করে মাচা করে রেখেছেন। রাতে বাগান মালিক আব্দুস সালাম টোলে বসে বাগানটি পাহারা দেন। এই ধরনের বড়ই চাষ করে আব্দুস সালাম এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের কুমড়াকাফন গ্রামের কৃষক আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুস সালাম, জীবিকার তাগিদে ভাগ্য বদলের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে গিয়েছিলেন বিদেশ। বিদেশ যাওয়ার পর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।তখন কাজ করতে না পেরে নিঃশ^ হয়ে যান। প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশ রিয়াদ এম্বেসির মাধ্যমে খালি হাতে দেশে ফিরে আসেন আব্দুস সালাম। দেশে আসার পর আব্দুস সালাম আত্মনির্ভরশীল হওয়ার তাগিদে নানান চেষ্টা করেন। তখন দার দেনা করে ২৫ শতাংশ যায়গায় করে এই বিদেশী বরইয়ের চাষ। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তার ছোট ভাই সাবেদ আলীর সহযোগিতায় মেহের পুর জেলা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ১৬০টি চারা কুড়িয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আনেন,তখন চারা রোপনের পর পরে ১০টি চারা মারা যায়। সালাম ও তার ভাই সাবেদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পরিচর্যায় মাত্র ৮ মাসের মাথায় ডিসেম্বরে সবকটি গাছেই কুল ধরে। এখন প্রতিটি গাছে ঝুলছে পাকা কুল। এই কুল বরই দিয়েই অবশেষে ভাগ্য পাল্টানোর আশায় আব্দুস সালামের মুখে হাসি ফুটে। কুল চাষে প্রায় ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, প্রায় এক লাখ টাকার অধিক বল সুন্দরী কুল বরই বিক্রি করতে পারবেন। তবে এই কুল চাষে তেমন খরচ নেই বলে জানান সালাম। শুধু চারা সংগ্রহ করতেই একটু সমস্যা।
আব্দুস সালাম ও তার ভাই সাবেদ আলী বলেন, ‘ফেইসবুক ও ইউটিউব দেখে উদ্যোগ নেই আমরা। এরপর সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে কুল চাষের জন্য ২৫ শতাংশ জমিতে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল বরই চাষ শুরু করি। আমরা ভাবেননি এতো ফলন হবে। ইনশাআল্লাহ আগামীতে কষ্ট করে হলেও আরো বড়ভাবে চাষের চেষ্টা করবো। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে আমার উপকার হবে এবং সহজেই বড় পরিসরে বল সুন্দরী কুল বরই চাষ করতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, আশা করছি বরইগুলো বিক্রি করলে আমার আর কোনও অভাব থাকবে না। এই উপজেলায় অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপলে কুল বরই এই প্রথম চাষ হয়েছে। অনলাইনে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। অনলাইনে চাহিদা বেশী থাকায় খুচরা বাজারে তুলিনি। এবার দের থেকে দুই লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’
এদিকে কমলগঞ্জ পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ বলেন,‘আমার পৌর এলাকার ভেতরে এত সুন্দর অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল বরই চাষ করা হয়েছে তা যেনে আমি যায়গা পরিদর্শন করি এবং কৃষক আব্দুস সালামকে পৌরসভার পক্ষ থেকে সর্বদিক সহযোগীতা করা হবে বলে জানান।তার এই কাজে যুব সমাজের উপকৃত হবে। অন্যরা এই কাজে উৎসাহ পাবে বলে তিনি মনে করেন’।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন,‘আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর পৌর এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে খুজখবর নেওয়া হয়েছে। আমরা আব্দুস সালামকে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com