ইউপি নির্বাচন মৌলভীবাজার : ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে

December 22, 2021,

তমাল ফেরদৌস॥ মৌলভীবাজারে ভোটের মাঠে এখনো কয়েকটি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে। এর মধ্যে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান এবং নতুন প্রার্থী রয়েছেন। সদর উপজেলায় সরকারী দলের উপযুক্ত প্রার্থী না থাকায় এঅবস্থা তৈরী হয়েছে বলে ভোটাররা মনে করছেন। তবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে দলটি। কিন্তু সময় কম থাকায় সেটা সম্ভব নিয়ে শংকা রয়েছে। প্রতিদিনই সরকারি দলের জেলা নের্তৃবৃন্দ সভা সমাবেশ করে ভোটারদের পক্ষে টানতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আর মাত্র তিনদিন বাকী আছে। এরমধ্যেই শেষ হবে সব হিসেব নিকেশ।
স্বতন্ত্রদের মধ্যে কনকপুর ইউনিয়নে রেজাউর রহমান চৌধুরী, মোস্তফাপুর ইউনিয়নে তাজুল ইসলাম তাজ, আমতৈল ইউনিয়নে সুজিত দাশ, কামালপুর ইউনিয়নে ফয়ছল আহমদ, আপার কাগাবলা ইউনিয়নে ফারুক আহমদ, গিয়াসনগর ইউনিয়নে মোঃ জিলা মিয়া। বর্তমানে এই প্রার্থীরা অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে ভোটারদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে।
কনকপুর ইউনিয়নে রেজাউর রহমান চৌধুরী বর্তমান চেয়ারম্যান থাকায় তাঁর একটা ভোট ব্যাংক রয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কারণ তিনি গতবার স্বতন্ত্র থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই নির্বাচনে নতুন প্রার্থীদেরকে শুণ্য থেকে শুরু করতে হবে আর পুরনো প্রার্থীরা এই ইউনিয়নে অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও চমক দেখালে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবেনা।
মোস্তফাপুর ইউনিয়নে তাজুল ইসলাম তাজ ও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমদ তোয়েল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন। তবে তাজুল ইসলাম তাজ বর্তমান চেয়ারম্যান থাকায় এবং গত পাঁচ বছর এলাকায় উন্নয়নের কারণে ও সাধারণ ভোটারদের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা থাকায় শেষমেষ তিনিই বিজয়ী হবেন বলে ভোটাররা মনে করছেন।
আমতৈল ইউনিয়নে সুজিত দাশ এবার ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে সুর উঠেছে। তিনিও এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। এই ইউনিয়নে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রানা খাঁন শাহীন ও সুজিত দাশের মধ্যে। রানা খাঁন শাহীন বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সুজিত দাশ সাবেক চেয়ারম্যান। ইউনিয়নের ভোটারদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের কারণে সুজিত দাশ পরাজিত হয়েছিলেন। তবে এবার তিনি ভোটারদের মন জয় করতে অনেকটা সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তাঁর আলাদা কদর রয়েছে ভোটারদের মাঝে।
কামালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়ছল আহমদ। তিনি বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী। এপর্যন্ত তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এবার তাঁর ভোট ব্যাংকের উপর দাঁড়িয়েই নির্বাচন করছেন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় তরুণ প্রার্থী আব্দুর রহমান ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আপ্পান আলী রয়েছেন। আব্দুর রহমান ও বিদ্রোহী প্রার্থী আপ্পান আলী একে অপরের ভোট কাটবেন। এই প্রেক্ষাপটে এবারও ফয়ছল আহমদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আপার কাগাবলা ইউনিয়নে এবার একজন ছাড়া সব নতুন প্রার্থী। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মুজিবুর রহমান। উনার সাথে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী হিসেবে রয়েছেন ইমন মোস্তফা। এখানে দলীয় ও বিদ্রোহী মিলে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগাভাগি হবে। এই ইউনিয়নে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ফারুক আহমদ। তিনি নতুন, তবে তাঁর পরিবার অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তাঁর বাবা ও বড় ভাই কয়েকবার মেম্বার পদে জয়লাভ করেছেন। ফারুক আহমদ নতুন হলেও তিনি ইতিমধ্যে তাঁর ভালো কর্মকান্ডের কারণে এলাকায় বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। সবশেষ ভোট গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি যদি তাঁর এই অবস্থান ধরে রাখতে পারেন তাহলে জয়লাভ করা সম্ভব বলে ভোটাররা মনে করছেন।
গিয়াসনগর ইউনিয়নে খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী জিলা মিয়া। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান মনর মিয়ার ছেলে। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে তাঁর বাবার ক্লিণ ইমেজ ও ভোটারদের সাথে তাঁর আচার ব্যবহারের কারণে তিনি অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর সাথে আরও কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার ছেলে গোলাম মোশাররফ টিটু, বিএনপি নেতা সৈয়দ গৌছুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ছুরুক মিয়া।
ভোটের আর কয়েকদিন বাকী। এই তিনদিনে অনেককিছুরই পরিবর্তন হয়। তবে ভোটের আগের দিন যিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকেন তাঁর বিজয় হয়। এটা অবশ্য ভোটের মাঠের বিগত দিনের চিত্র। এবার সেই চিত্র থাকবে না নতুন কোন চিত্রায়ণ হবে তা দেখতে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে শেষ কথা হলো, যা রটে তাঁর কিছু না কিছু বটে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com