এবারের ঈদ কাটবে নিজের ঘরে কমলগঞ্জের প্রায় ২৫০ পরিবারে প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাস

July 18, 2021, এই সংবাদটি ৯৪ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্বপ্নের প্রায় ২৫০ ঘরে সহস্রাধিক লোক বাস করছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন উপকারভোগীরা। ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ২ শতাংশ জমির সঙ্গে ঘর পেয়েছেন উপকারভোগীরা। পাকাঘর পেয়ে তারা এবারের ঈদ উদযাপন করবেন চরম খুশিতে। ভিটাবাড়িশূন্য মানুষের জন্য বিষয়টি স্বপ্নের মতো। নবনির্মিত ঘরগুলোতে শোভা পাচ্ছে লাল রঙের টিনের ছাউনি। গৃহহীনরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার, মুন্সীবাজার, আলীনগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ২৪১ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৭৫টি ঘর উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। অন্যের ঘরে আশ্রিত মানুষগুলো এখন নিজের ঘরে বাস করার সুযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার তুলনায় সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ঘরে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অনিয়ম বা সমস্যা দেখা যায়নি। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কিছু কিছু জায়গায় ১০/১২টি ঘরে চির ফাটল দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপে সংস্কার করে দেয়া হয়। এসব ঘরে বসবাস করে উপকারভোগীরা উদ্বেলিত ও উচ্ছ্বসিত।
রোববার দুপুরে সরেজমিন পতনঊষার ইউনিয়নের পতনঊষার, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের হরিশ্মরণ, আলীনগর ইউনিয়নের রাজকান্দি এলাকার বকশীটিলা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরগুলোয় ব্যবহার করা হয়েছে লাল রঙের টিন। দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর, শৌচাগার ও স্টোর রুম। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া স্বপ্নের বাড়িতে ইতিমধ্যে উপকারভোগী যারা উঠেছেন তারা তাদের সন্তানাদি নিয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ শোভাবর্ধনের জন্য ঘরের আঙিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। ঘরঘেঁষে তৈরি করছেন আলাদা আরও প্রয়োজনীয় গুদামঘর। সবাই খুব উৎফুল্ল, আনন্দিত। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সারাদিন মাঠে-ঘাটে পরিশ্রম করে নিজের বাড়িতে থাকতে পারবে এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্য দীর্ঘায়ু ও দোয়া কামনা করেন।
মুন্সীবাজার ইউনিয়নের হরিশ্মরণ গ্রামের ভূমিহীন বাসন্তী মালাকার জানান, ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে এতদিন খুবই কষ্টে ছিলাম। এখন আমাদের খুবই খুশী লাগছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই গ্রামের মৃত রবীন্দ্র শব্দকরের স্ত্রী সুভাসিনী শব্দকর নতুন পাওয়া ঘর ঘুরে ঘুরে দেখিয়ে বললেন, পাকা ঘরটি তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে। থাকার কক্ষের সঙ্গে রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ভালো। পরিবার নিয়ে এখন খুব ভালোভাবে থাকতে পারবেন।
এভাবে মখলিছ মিয়া, নৃপেন্দ্র রায়, রহিমা বেগম, পতনঊষারের পবিন্ড শব্দকর জানান, সন্তানদের নিয়ে অন্যের জায়গায় ঘর তুলে থাকতেন। ছেলেরা অটোরিকশা চালিয়ে, কেউ দিনমজুরী করে আবার কেউবা অন্যের দোকানে কাজ করে যা উপার্জন করে তাতে তাদের সংসার চলত কষ্টেসৃষ্টে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর পেয়ে তারা দারুণ খুশি। অনেকেই নিজেদের বসবাস-উপযোগী করে ঘর গোছাচ্ছেন। তাদের চোখেমুখে তৃপ্তি ফুটে উঠেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তালিকাভুক্ত ৭৪৫টি ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫৬ পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে ৮৫টি ভূমিহীন পরিবার পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার। এতে প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রথম পর্যায়ের ৮৫টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষে ইতিমধ্যে উপকারভোগীদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের ৩৩০ ঘরের মধ্যে ১৫৬টির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। তবে কিছু ঘরে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের কাজ এখনো বাকী রয়েছে। কাজ শেষ করার পর স্বপ্নের ঘরে উঠবেন উপকারভোগীরা। বাকি ঘরগুলোর কাজ চলমান। তিনি জানান, ‘আমরা নকশা অনুযায়ী কাজ করেছি। তবে দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য প্রতিটি ঘরে কাঠের বদলে এমএস অ্যাঙ্গেল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি ঘরের বাথরুমে লাগানো হয়েছে সিরামিকের প্যান।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম ফারুক মীর ঘরগুলোকে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরগুলোকে ‘শিগগিরই ঘরগুলোয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।’
পানির বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী সুজন সরকার বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোয় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীন অসহায় পরিবারগুলোকে উপহার স্বরুপ পাকা বাড়ি করে দিচ্ছেন। ফলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষগুলোর সামাজিক মূল্যায়ন বৃদ্ধিসহ প্রাত্যহিক জীবনে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। সব মিলিয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •