কমলগঞ্জে চা-বাগানে আইসোলেশন সেন্টার

August 3, 2021, এই সংবাদটি ১৫৭ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ দেশের বাকি অংশের মতো চা-বাগানেও ঝড়ের গতিতে করোনা মহামারির নতুন সংক্রমণ বাড়ছে। বেডের সংখ্যা বাড়িয়েও রোগীর চাপ সামলাতে নাজেহাল জেলার হাসপাতালগুলি। চা-বাগানে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা-বাগানে চা শ্রমিকদের করোনা সুরক্ষা, শমশেরনগর চা-বাগান টিম, চা বাগান কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এবং Awareness with Human Action (A.H.A) এর সহযোগিতায় চা-বাগানে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে ।
গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ও চা-শ্রমিকদের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হওয়ায় কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে চা ছাত্র-যুব পরিষদ, জাগরণ যুব ফোরাম ও চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য চা-বাগান এলাকায় মাইকিং শুরু করে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমিতদের ঘরে খাদ্য ও পুষ্টি সম্পন্ন খাদ্য পৌছে দেয়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ১৪ দিন হোম আইসোলেশনে থাকারও পরামর্শ দেয়।
সম্প্রতি শমশেরনগর চা-বাগানে চা শ্রমিকদের করোনা সুরক্ষা, শমশেরনগর চা-বাগান টিম গঠন করে শমশেরনগরে চা-বাগানে ব্রিটিশ কোম্পানি ডানকান ব্রাদার্সের শমশেরনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপকের সাথে আলোচনা করে স্থানীয় চা-বাগানের পুরাতন হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সেখানে ৬টি বেড স্থাপন করে নিজেদের আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়। এ সেন্টারে সাহায্য পাওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডারও রাখা হয়ছে।
চা-শ্রমিকদের করোনা সুরক্ষা শমশেরনগর চা বাগান টিমের সমন্বয়ক ছাত্রনেতা মোহন রবিদাস বলেন, আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছি অনেক আগে থেকেই। বাগানের পুরাতন হাসপাতাল ভবন ব্যবহার করে একটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করেছি। কোনো ঘরে করোনা সংক্রমিত হলে তাকে এ সেন্টারে এনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ডানকান ব্রাদার্সের চিকিৎসক ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, চা-বাগানের ব্যাবস্থাপনায় আমারা ৬টি বেডের নিজেদের আইসোলেশন সেন্টার করে রাখলাম। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও এখানে অক্সিজেনের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে।
শমশেরনগর চা-বাগান ব্যবস্থাপক মোঃ জাকির হোসেন জানান, ধরে নিতে পারেন আমাদের পুরো বাগানটাই আইসোলেশন করা। এখানে বাহিরের কেউ ঢুকতে পারেনা, আবার প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাহিরে যায় না। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে আমরা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাথে আলোচনা করে সচেতনতামূলক মাইকিং ও ক্যাম্পিং করেছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের পুরাতন হাসপাতাল ভবনে ৬ বেডের আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করে রেখেছি। আগামী ৭ আগস্ট থেকে চা-শ্রমিকদেরকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করব আমাদের ক্যাম্পে টিকা এনে দেওয়া যায় কিনা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •