কামারচাক ইউনিয়নে তিনবার বদল হলো নৌকার প্রার্থী, ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ

November 30, 2021, এই সংবাদটি ১৪৮ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে তিনবার নৌকার প্রার্থী বদল হলো। দু’জন প্রার্থীকে দু’বার করে মোট চারবার দলীয় প্রতীক দিয়ে শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি আসে। সর্বশেষ যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি আওয়ামী লীগ করেন না বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন কামারচাক ইউনিয়নেও ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ নভেম্বর প্রকাশিত দলীয় মনোনয়ন তালিকায় কামারচাক ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পান বর্তমান চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা মোঃ নজমুল হক সেলিম। পর দিনই আতাউর রহমান নামে দলের বাইরের একজনকে নৌকা প্রতীক দিয়ে শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি আসে। এর পরদিন আবারও শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত ‘চূড়ান্ত’ চিঠি আসে যুবলীগ নেতা সেলিমের নামে।
সর্বশেষ সোমবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের শেষ দিনে আবারও ‘চূড়ান্তভাবে’ শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি আসে আতাউর রহমানের নামে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাক্ষরে নজমুল হক সেলিমের নাম কেন্দ্রে যায়। সেখানে আতাউর রহমানের নাম ছিল না। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশ উপেক্ষা করে চূড়ান্ত তালিকায় আতাউর রহমানের নাম আসায় ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে, দলের মধ্যে বেড়েছে ক্ষোভ। জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন এ ঘটনা।
নজমুল হক সেলিমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহেদুল হক কচি বলেন, ‘নাজমুল হক সেলিমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা রিটার্নিং অফিসারের সঠিক হয়নি। রিটার্নিং অফিসার বলছেন, ২৫ তারিখ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড নজমুল হক সেলিমের মনোনয়ন বাতিল করে আতাউর রহমানকে মনোনয়ন দেয়। অথচ ২৫ তারিখে নজমুল হক সেলিমের চূড়ান্ত মনোনয়নের একটা চিঠি আছে। চিঠিতে আতাউর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করে নজমুল হককে দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন বোর্ড কর্তৃক নজমুল হক সেলিমকে দেওয়া চিঠি আমলে না নিয়ে আমাদের মনোনয়ন বাতিল করেছেন। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন বখতের কাছে জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘আতাউর রহমান আওয়ামী লীগে আছেন আমার জানা নেই। আমার জানামতে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নেই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অবগত না। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ভালো বলতে পারবে।’
উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা ও কামারচাক ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার গোলাম রব্বানী খানের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তিনি কার্যালয়ে সাংবাদিক প্রবেশ করতে দেননি। অফিস গেটে তালা ঝুলিয়ে অফিস পিয়নকে দিয়ে বলান, ভেতরে সাংবাদিক প্রবেশ করা যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •