কুলাউড়ায় ফের চমক দেখাতে চান নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী বুবলী

November 21, 2021, এই সংবাদটি ১২১ বার পঠিত

কুলাউড়া প্রতিনিধি কুলাউড়ার ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র নারী ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হলেন নার্গিস আক্তার বুবলি। তাঁর পক্ষে ৪ ছেলে সন্তান তামিম, তানজিদ, সামি ও তাজরিয়ান ২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আহসান ইকবালের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বুবলী (আনারস) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন থেকে আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মোছাদ্দিক আহমদ নোমান (নৌকা), জুবের আহমদ খাঁন (চশমা) ও শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ।

বুবলী কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের সাবেক তিন বারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ শাহজাহানের সহধর্মিনী। পারিবারিক জীবনে তাদের ৪ পুত্রসন্তান ও ১ কন্যা সন্তান রয়েছে। বিগত ২০১৬ সালের নির্বাচনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নে প্রথম বারের মত প্রতিদ্বন্ধিতা করে ১৯৬ ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হয়ে বাজিমাত করেন। নির্বাচনে বুবলী ২১৮৯ ভোট ও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান চৌধুরী ১৯৯৩ ভোট পান। সিলেট বিভাগে তিনিই প্রথম নির্বাচিত নারী চেয়ারম্যান বলে জানা গেছে।

এবারের নির্বাচনেও তাঁর স্বামী অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি একজন নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিটি গ্রামে গ্রাম ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে স্বামীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিজয়ী হলে নারী উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি সাধারণ ভোটারদের মন জয় করে ও তাঁর স্বামীর দীর্ঘজীবনের রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, স্বতন্ত্র ৩ প্রার্থীকে ধরাশায়ী করে চমক দেখিয়ে বিজয়ী হতে চান।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান বলেন, আমার স্ত্রী দ্বিতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। সচেতন মানুষ হিসেবে আমি নারী স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখব না। এই সময়ে নারী নেতৃত্বের খুবই প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে অদ্যাবদি পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছরে আমাদের সময়কালে সদর ইউনিয়নে ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২টি প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্টা, রাস্তাঘাট পাকাকরণ, ইটসলিং, কালভার্ট, কৃষি ক্ষেতের উন্নয়ন, খামারী সৃষ্টিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। যা অতীতে কখনো হয়নি। ২৩ বছর পূর্বে এই সদর ইউনিয়ন ছিল একটি বঞ্চিত ও অবহেলিত ইউনিয়ন। এবারের নির্বাচনে আমার স্ত্রী বিজয়ী হলে ইউনিয়নের অসমাপ্ত সকল উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত করা হবে। আমি দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রত্যাশা করছি এবং সবার সহযোগিতায় আগামী ২৮ নভেম্বর আনারস প্রতীকের বিশাল জয় হবে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নার্গিস আক্তার বুবলী বলেন, আমার স্বামীর সময়কালে ইউনিয়নে অনেক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। গেল ৫ বছর আমার সময়কালেও অনেক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। বিগত ইউপি নির্বাচনের বিজয়ের পেছনে নারী ভোটারদের অবদানের কথা স্বীকার করেন তিনি। এবারের নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হলে ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •