জুড়ীতে নামের মিল থাকায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাজানোর প্রতিবাদ মুক্তিযোদ্ধা পুত্রের

April 3, 2021, এই সংবাদটি ১১৩ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ জুড়ীতে নামের মিল থাকায় একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাজানোর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ৩ এপ্রিল শনিবার দূপুরে উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জুড়ীর প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিক মিয়ার একমাত্র পুত্র ফুলতলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুব আলম রওশন।
লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা পুত্র মাহবুব আলম রওশন অভিযোগ করেন, তার পিতা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যার নাম ভারতীয় তালিকার ২২৩ নম্বর পৃষ্টার ২৭৮২০ নম্বর ক্রমিকে লিপিবদ্ধ রহিয়াছে। তার বাবা মারা যাওয়ার পর মা জোবেদা খাতুন জমিলা ২০১৪ সালে সরকারের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভাতার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন এবং দীর্ঘ ৪ বছর যাচাই বাচাইপুর্বক ২০১৮ সালে ভাতা মঞ্জুর করা হয়। সেই অবধি তার মা এবং মা মারা যাওয়ায় বর্তমানে একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণ করছেন। ইতিপূর্বে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউপির আজিরুন বেগম ২০০৫ সাল থেকে বেসামরিক গেজেটের ১০৬১ নম্বর তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মৃত সফিক মিয়া নামে ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। সম্প্রতি জামুকা কর্তৃক তার গেজেট নম্বরের তদন্ত শুরু হলে তিনি বিপাকে পড়ে যান। অবশেষে নামের সাথে মিল থাকায় জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সফিক মিয়ার ভারতীয় তালিকা নম্বরটি তার স্বামীর নম্বর বলে দাবি করছেন। উল্লেখিত আজিরুন বেগম বিগত ২০০৫ সালে ভাতার জন্য আবেদনের সময় তিনি ভারতীয় তালিকা উল্লেখ করেন নি। তাছাড়া তার স্বামী না কি এক সময় জুড়ী উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে মিথ্যা দাবী করতেছেন। অথচ তার জন্ম ও মৃত্যুসনদে তিনি কমলগঞ্জের কালেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা বলে উল্লেখ রয়েছে। তা ছাড়া আজিরুন বেগম তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি তাকে মা এবং তার স্বামীকে পিতা বানিয়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজেছি। যা সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ছাড়া গত ২৪ শে মার্চ জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইকালে উপস্থিত ফুলতলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্বা আব্দুল করিম ও ইব্রাহিম আলী প্রমুখ আমার পিতা সফিক মিয়াকে মুক্তিযুদ্ধকালিন ভারতের মাসিমপুর, রাণীবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে তাদের সাথে কাজ করার স্মৃতি তুলে ধরেন। আমি একজন জনপ্রতিনিধি। আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা নানাভাবে আমাকে প্রতিহিংসামুলক হয়রানী করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি তাদের বিরুদ্ধে গত ৩০ মার্চ জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাদের ইন্ধনে আজিরুন বেগম মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। এর কোনো সত্যতা নাই।
মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় করে দেখা যায়, মাহবুব আলম রওশনের পিতার জীবনবৃত্তান্ত, জন্ম ও মৃত্যু সনদের সাথে কমলগঞ্জের সফিক মিয়ার কোনো মিল নাই। জুড়ীর সফিক মিয়ার মাতার নাম ছয়মুন বিবি, জন্ম তারিখ ১৫/২/১৯৪৫, মৃত্যু তারিখ ০২/৯/১৯৮০। কমলগঞ্জের সফিক মিয়ার মাতার নাম আমিনা বেগম, জন্মতারিখ ০১/০১/১৯৫১, মৃত্যু তারিখ ১১/১২/২০০৬ইং।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •