জুড়ীর চা বাগানের টাকা ছিনতাইর নাটক : শ্রমিকরা বিক্ষুব্দ

October 22, 2016,

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ জুড়ী উপজেলার ধামাই চা বাগানের ব্যস্থাপক মালেক নেওয়াজ ওয়াইজের বিরুদ্ধে বাগানের রেশন সরবরাহকারীর বকেয়া পরিশোধ করে টাকা ছিনতাইর গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের বিক্ষুব্দ করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার ২০ অক্টোবর বিকেলে ব্যাংক থেকে টাকা তোলে বাগানে যাওয়ার পথে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাইর খবরে শুক্রবার সকালে কয়েকশ’ বিক্ষুব্দ শ্রমিক-কর্মচারী টাকা উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে থানা প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে। পুলিশের এসএসপি (কুলাউড়া সার্কেল), উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, চা শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানার পর শ্রমিকরা থানা ঘেরাও কর্মসুচি প্রত্যাহার করে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, জুড়ী উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী রুসমত আলম ধামাই চা বাগানে শ্রমিক রেশন (চাল, আটা) সরবরাহ করেন। গত তিন বছরে বাগানে তার ২৪ লাখ ৮১ হাজার ৪শ’ টাকা আটকা পড়ে। টাকা পরিশোধের একাধিক তারিখ করেও বাগান কর্তৃপক্ষ তা দেয়নি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও ম্যানেজার মালেক নেওয়াজ ওয়াইজ ব্যাংক থেকে শ্রমিক-কর্মচারীর বেতনের ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা তোলে রুমসমত আলমের সাথে যোগাযোগ না করেই বাগানে রওয়ানা দেন। এসময় রুসমত আলম পাওনা টাকা পরিশোধের তাগদা দেন। ম্যানেজার প্রথমে না চাইলেও পরে ব্যাংক থেকে তোলা সমুদয় টাকা দিয়ে বাগানে চলে যান। রুসমত আলম দলবল নিয়ে বাগানের টাকা ছিনতাই করেছেন জানালে বাগানের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। শুক্রবার সকালে কয়েকশ’ নারী-পুরুষ শ্রমিক-কর্মচারী থানা ঘেরাও করেন।

খবর পেয়ে পুলিশের এসএসপি (কুলাউড়া সার্কেল) জুনায়েদ আলম সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি, পুর্বজুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান মইনউদ্দিন মইজন, চা শ্রমিক নেতা যাদব, সেভেন নায়েক, মনা রুদ্র পালসহ নেতৃবৃন্দ ওসির কার্যালয়ে বাগান ব্যবস্থাপক মালেক নেওয়াজ ওয়াইজ ও রেশন সরবরাহকারী রুসমত আলমের সাথে বৈঠক করে আসল ঘটনা জানতে পারেন।

এসএসপি (কুলাউড়া সার্কেল) জুনায়েদ আলম সরকার জানান, এটা ছিনতাইর কোন ঘটনা ছিল না। ছিনতাইর গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা চালানো হয়। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টির সমঝোতা হয়েছে।

রেশন সরবরাহকারী রুসমত আলম জানান, তার দোকানে গিয়ে ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজার বাগানে গিয়ে ছিনতাইর নাটক সাজিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পুলিশ ও জনপ্রতিধির মাধ্যমে বকেয়া পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে তার সাথে বাগানের সমঝোতা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে রেশন সরবরাহকারী রুসমত আলমকে টাকা পরিশোধ করে বাগানে গিয়ে ছিনতাইর নাটক সাজানোর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া স্বত্ত্বেও ম্যানেজার মালেক নেওয়াজ ওয়াইজ জানান, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাগানের প্রায় ১৬ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে। এ খবরে শুক্রবার সকালে টাকা উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে শ্রমিক-কর্মচারীরা থানা ঘেরাও করে রাখে

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com