নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও কর্মী সমর্থকদের নিয়ে আতংকিত মেয়র মহসিন মিয়া মধু

November 30, 2021, এই সংবাদটি ১২২ বার পঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গল পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র শিল্পপতি মহসিন মিয়া মধু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি বিজয়ী হওয়ার যতটুকু খুঁশি তার চেয়ে হাজারগুন বেশি আতংকিত জনগনের নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি ব্য্যক্তিগত ভাবে নিজেও আতংকিত এবং তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তিনি আতংকিত।
তিনি বলেন যারা তার বাসায়, এবং তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করেছে, তাদের নামে থানায় মামলা দিলেও তারা প্রকাশ্যে পুলিশে সাথে এবং আশ-পাশে তেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নির্বাচন করছে। তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্টসহ কর্মী সমর্থক ও নেতাকর্মীরা অপরাধ না করেও মামলার আসামী হয়েয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের খুঁজছে। এই হলো ক্ষমতার অপব্যবহার।
রবিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর তার নিজ বাস ভবন মহসিন নিবাসে তাংক্ষুনিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথাগুলো বলছিলেন, চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হওয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র শিল্পপতি মহসিন মিয়া মধু।
তিনি জানান, আমাকে যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তাদের নিরাপত্তা চাই। যাতে তাদের দলীয় ও সরকারের প্রভাব খাঠিয়ে আমার জনগনের উপর যেন আক্রমন করা না হয়। জনগন চায় শান্তিভাবে বসবাস করতে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি যেন না হয়, বাড়ি ঘরে যেন হামলা না হয়। কিন্তু আমি এই মূহুর্ত্বে অপারগ হয়ে যাচ্ছি এই কয়েক দিনের অবস্থা দেখে।
তিনি আরো বলেন,‘নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে জয় পরাজয় থাকবেই। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জনগনের সেবা করার জন্যই মেয়র হতে চেয়েছিলেন, আমিও সেটাই চেয়েছি। জনগন আমাকে বেশি ভোট দেয়ায় আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। উনাকেও জনগন ভোট দিয়েছে। তাই জনগনের যে আশা আকাংখা, আমরা দু’জন যদি মিলেমিশে কাজ করি তাহলে জনগনের আশা আকাংখা পুরন করে ও শান্তির শহর গড়তে সহজ হবে।’
তিনি শান্তিপুর্ন ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের সকল সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরো বলেন, নৌকা মার্কার প্রার্থী যদি আমার সাথে থেকে দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, ন্যায়কে ন্যায়, অন্যায়কে অন্যায় বলেন তাহলে আমাদের এই পর্যটকের শহর আগামীতে আরো সুন্দর হবে। আমরা ভাল কাজে এক হতে পারি না কেন এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মেধাবীদের মূল্যায়ন করা না হলে মেধাবী জন্মাবে না। ভাল কাজে প্রশংসা না করলে ভাল কাজ যারা করে তারা উৎসাহ পাবে না।
সাংবাদিকেদের বিভিন্ন প্রশ্নেন জবাবে মেয়র বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে ময়লার বাগার সরানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ইচ্ছে করলে এক মিনিটেই সকল সমষ্যার সমাধান করতে পারেন। আমি বাগারের জন্য জমি কিনেছি, বাওয়ান্ডারী করার জন্য কাজ শুরু করলে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় গেইট লাগিয়ে বাধা দিয়ে মামলা করে কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি মামলা তুলে গেইটটা খোলে দিলেই তো সব সমষ্যার সমাধান হয়ে যায়।
যারা শহরের ফুটপাত দখল করে, এলোপাতাড়ি ভাবে গাড়ি রেখে যানজট সৃষ্টি করে এবং যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বিনষ্ট করে এদের ব্যাপারে আপনারা সহযোগিতা করলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো। আমি চাই পর্যটন নগরীকে একটা পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে।
উল্লেখ্য,২৮ নভেম্বর প্রথম বারের মতো ইলেকট্রনিক ভোট মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হককে ৪৫৭ ভোটে পরাজিত করে তিনি পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি মোট ভোট পান ৫৯৮৯ এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা মার্কার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক ৫৫৩২ ভোট।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •