পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে জুড়ীর পান চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছে

May 27, 2021, এই সংবাদটি ১২১ বার পঠিত

জুড়ী প্রতিনিধি॥ পান চাষ করা খাঁসিয়াদের অন্যতম আদি পেশা। বর্তমানে এখানকার পান চাষিরা নানা সমস্যার সম্মুখীন। পান চাষের ঐতিহ্য ধরে রেখে এর সম্প্রসারণে প্রয়োজন সরকারী, বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকার পান উৎপন্ন হয়ে থাকলেও খাঁসিয়া পান উৎপাদিত হয় কেবলমাত্র মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ী এলাকায় খাঁসিয়া পুঁঞ্জিতে। আর এ পান বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। কারণ এ পান সহজেই পচন ধরেনা। স্বাধ ও গুনে এ পানের তুলনা হয়না। জেলার উৎপাদিত খাঁসিয়া পান বিদেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু যে খাঁসিয়ার পান চাষিরা এ পান উৎপাদন করেন, সে সম্প্রদায়ে আজো তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। পান চাষ উপজাতি খাঁসিয়া সম্প্রদায়ের আদি পেশা। গভীর বনে বড় বড় গাছে এরা পান চাষ করে থাকেন। পতিত বনভূমি সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে পান চাষের উপযোগী করতে বড় বড় গাছ নির্বাচন ও ছাঁটাই করা হয়। আর পরিস্কার ও ছাঁটাই করা গাছের নিচে পানের চারা রোপন করা হয়। অল্প দিনেই চারা বড় বড় গাছকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠে। এসব লতানো গাছে প্রতি মৌসুমে প্রচুর পান উৎপন্ন হয়। তবে, বছরের বার মাসই কমবেশি খাঁসিয়া পান উৎপাদিত হয়। খাঁসিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা খাঁসিয়া পাহাড়ি এলাকায় টিলার উপর ঘর বেঁধে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। তাদের সমাজের কর্তাকে মন্ত্রী বলা হয়। এ ধরনের পাহাড়ি ভূমিতে খাঁসিয়া পান ও বসবাসের স্থানকে পুঁঞ্জি বলা হয়। এক এক পুঁঞ্জিতে কমপক্ষে ৩০ থেকে ২০০ পরিবার বসবাস করে। এভাবে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী, কুলাউড়া, বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৬০ টির অধিক খাঁসিয়া পুঁঞ্জি রয়েছে। পুুঁঞ্জিতে উৎপাদিত পান দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। পান চাষে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। খাঁসিয়াদের কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত পান বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হলেও ওই সম্প্রদায়ের ভাগ্যে তেমন কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। পুঞ্জিগুলো হাজারো সমস্যায় জর্জরিত। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ভূমি লিজ নিয়ে নানা জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভূগছেন খাঁসিয়ারা। এ ধরনের সমস্যার নিরসনসহ প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতা পেলে তাদের উৎপাদিত খাঁসিয়া পান বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আরো অধিক পরিমান রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •