প্রধানমন্ত্রীর উপহার পয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল কালাপুরে প্রাকৃতিক স্বর্গ রাজ্যের বাসিন্দা হচ্ছেন ৩শ পরিবারের দেড় সহস্রাধিক মানুষ

June 19, 2021, এই সংবাদটি ২১৬ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক স্বর্গ রাজ্যের বাসিন্দা হচ্ছেন ৩শ পরিবারের দেড় সহস্রাধিক মানুষ। আর শ্রীমঙ্গলের এই পরিবার গুলোকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ভুমি ও গৃহহীন মানুষগুলোকে এ উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই এর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রবিবার ২০ মে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহিতে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে গৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা আশ্রয়ণ-২ (২য় পর্যায়) এ তিনশত ঘর নির্মিত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, কালাপুরের মাজদিহি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক এলাকা। মনোরম পরিবেশের এই জায়গাটি বাছাই করে সেখানে মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৩শত ঘর স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৬০ ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যা শনিবার সকালে ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, এই প্রকল্পটি অন্য প্রকল্পের চেয়ে একটু ভিন্ন। এখানে বসবাসকারী জনগেণের জন্য করা হচ্ছে একটি লেক, তৈরী করা হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, থাকছে মসজিদ, মন্দির ও মার্কেট।
এদিকে এ উদ্বোধনকে সামনে রেখে উপজেলা জুড়ে বইছে উৎসব আমেজে। গত এক মাস ধরে জোড়েসোরে চলছে বিভিন্ন কর্মকান্ড। নতুন বসতির এ গ্রাম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল কালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজিব তার ইউনিয়নে এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, ছায়াঘেরা একটি সবুজ বেষ্টিত পাহাড়ী এলাকা। এই জায়গায় এমনিতেই যে কেউ গেলে তাদের মন ভালো হয়ে যায়। তিনি জানান, সেখানে যাতায়াতের রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সম্পাদন করছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার মো: নেছার আহমদ জানান, শ্রীমঙ্গলে আরো বিভিন্ন জায়গায় প্রথম পর্যায়ে এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর করে দেয়া হয়েছে কিন্তু এটি অনন্য সুন্দর একটি জায়গায় পড়েছে। এখানের বাসিন্দাদের জন্য পানি, বিদ্যুৎ, উন্নত যোগাযোগসহ সব রকম সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, এ প্রকল্পটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার ভিতরে। আর উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার এরযোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভাল। এর চার পাশ সবুজ প্রকৃতি। প্রকল্প এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্য রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রকল্প এলাকায় সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে বন্দোবস্ত অযোগ্য ১০০ একর ভূমি রয়েছে। সেখানে লেবু, আনারস চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আরো বলেন, এই প্রকল্পের লোকেশন চমৎকার। তাই এখানে যারা বসবাস করবে তাদের জন্য আমরা এখানে ডিজিটাল বাংলাদেশের সব-সুযোগ সুবিধা করে দেব। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, যোগাযোগ ও গ্রোথ সেন্টারসহ সবকিছুই থাকবে। যেখান থেকে শহরের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগকরা যাবে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, এখানে ৩শ পরিবারে বসবাস করবেন ১৫শ মানুষ। যাদের জন্য থাকছে সকল সুযোগ সুবিধা। এটি দেশের মধ্যে একটি মডেল মুজিববর্ষ ভিলেজ। তিনি জানান দেশের অন্য যে কোন প্রকল্পের চেয়ে এটি সতন্ত্র। কারন এখানে এক জায়গায় ১৫শ মানুষের বাসস্থান হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে আমার গ্রাম আমার শহরের যে ভাবনা সে ধারণার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে এখানে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো আব্দুস শহীদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জতির জনকের সেই স্বপ্ন পূূরণ করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •