বড়লেখায় পরিবারের সাথে থেকে এক বছর সাজাভোগের ব্যতিক্রমী রায়

May 26, 2022,

আব্দুর রব॥ বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাদক মামলার অপরাধ স্বীকার করায় এক চা শ্রমিক আসামীকে শর্তসাপেক্ষে পরিবারের সাথে বসবাস করে এক বছর সাজাভোগের ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার প্রথম মাসেই ওই আসামীকে তিন প্রজাতির ৪৫টি ঔষধী বৃক্ষের চারা রোপন নিশ্চিত করতে এবং সাজা ভোগকালিন ১ বছর কোনধরণের অপরাধে না জড়ানোসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৫ মে বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে ব্যতিক্রমী রায় ঘোষণা করেন সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
জানা গেছে, উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানের বাবুল রিকমুনের ছেলে অতিশ রিকমুন (২৯) গত বছরের ১৮ নভেম্বর পুলিশ ফতেহবাগ চা বাগানের একটি চোলাই মদ তৈরীর কারখানা থেকে বিপুল পরিমান চোলাই মদের উপকরণ ও মদ তৈরীর সরঞ্জামসহ গ্রেফতার হয়। পরে শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রতন কুমার হালদার অতিশ রিকমুনকে প্রধান আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা করেন। আদালত আসামীকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। প্রায় দুই মাস জেল খেটে আসামী অতিশ রিকমুন জামিন পান।
মামলার চার্জ গঠনকালে আসামী অতিশ রিকমুন অপকটে দোষ স্বীকার করে আদালতকে জানান, তিনি একজন দরিদ্র চা শ্রমিক। তার দু’টি সন্তান রয়েছে। হাজতকালিন তারা অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করেছে। তার বিরুদ্ধে আর কোন মামলা নেই। সে সংশোধন হতে চায়। আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক আসামীর বয়স, সাংসারিক অবস্থা, পেশার ধরণ, অপরাধের মাত্রা এবং সহজ সরল স্বীকারোক্তি বিবেচনায় আসামীকে কারাগারে রেখে সাজা প্রদান না করে দুইজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ১ বছরের সংশোধনমুলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার শর্তে পরিবারের সাথে থেকে সাজাভোগের ব্যতিক্রমী রায় ঘোষনা করেন।
আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট গোপাল দত্ত জানান, মাদক মামলায় এক আসামীর বিরুদ্ধে দুইজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সংশোধন মুলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার শর্তে আদালত এক বছরের সাজাভোগের রায় ঘোষণা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •