মসজিদের মাইক, ফেইসবুক-ইউটিউব ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহবান-ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর

December 27, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান এমপি বলেছেন, মসজিদের মাইক ব্যবহারে আমার কিছু নির্দেশনা রয়েছে। লোকাল পিপলস অতিউৎসাহিত হয়ে অনেক সময় মসজিদের মাইক ভুল কাজে ব্যবহার করেন, এ বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ¦ান জানিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশানকে অনুরোধ করেন, যারা ফেইসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করে সমাজে অন্যায়, অভিচার করবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

মঙ্গলবার ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজের মুন হলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক আন্তঃ ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে বাঁচিয়েছেন, ২১বার তার উপর হামলা হলেও আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন, তাই স্বাধীনতার ৩৬ বছরেও যে উন্নয়ন হয়নি তা গত ১৪ বছরে সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহুরা আলাউদ্দিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব আব্দুল্লাহ আল শাহীন।

প্রতিমন্ত্রী  বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্যই আমৃত্যু কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধুন চার মূলনীতির অন্যতম ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন করে ছিলেন। একাত্তরেই তিনি আমাদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড করে ছিলেন। তার সুযোগ্যা কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেই লক্ষ্যেই কাজ যাচ্ছেন। আর সে কারণেই জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে বাংলাদেশে একত্রে বসবাস করছেন। এছাড়া তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ বরাদ্ধ দিয়েছেন,কাকরাই মসজিদের সম্প্রসারণ করেছেন,ঈদে মিলাদুন্নবী,সবেবরাত,সবেমেরাজসহ ধর্মীয় দিবসে সরকারী ছুটি ঘোষনা করেছেন,শরিয়াহ ভিত্তিক ইসলামীক ব্যংকিং ব্যবস্থা পবর্তন করেছেন ও ইসলামীক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ মুসলিম বিশ্বের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।

এছাড়াও তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। যদিও এই প্রকল্পের অর্থ সৌদি সরকার দেয়ার কথা থাকলেও সেটা দেয়নি তারা। মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সব ধর্মের মানুষ যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। হিন্দু ধর্মালম্বীরা নির্ভিগ্নে পুজা উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থাও করেছেন। নতুন নতুন মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারসহ এসব কার্যক্রমে বরাদ্ধ বাড়িয়েছেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হজ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন হজ যাত্রীরা যেন কষ্ট না পায়, কাজেই এখন আর হজ যাত্রীদের কোন কষ্ট করতে হয়না। এক ইমগ্রেশনেই তারা সৌদি পৌছে যেতে পারেন। হজ যাত্রীদের সহায়তায় আশকোনা হজ ক্যাম্পের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুয়ায়ী হজ যাত্রীদের কষ্ট লাঘবে আমরা তাদের লাগেজ বাসায় পর্যন্ত পৌঁছানোর দ্বায়িত্বও নিয়েছি।

পরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক আন্তঃধর্মীয় সংলাপে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি সামছুল ইসলাম, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিটুন, কুলাউড়া থানার ওসি আব্দুস সালেক, মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিশদের সভাপতি আশু রঞ্জন দাশ, মৌলভীবাজার জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নকুল চন্দ্র দাশ, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি ইপা বড়ুয়া, খৃষ্টান ধর্মের প্রতিনিধি ভিক্টর প্রেন্টিস, টাউন দেওয়ানী মসজিদের ইমাম সৈয়দ মাওলানা সৈয়দ মুহিত উদ্দিন, প্রেসক্লাব সম্পাদক পান্না দত্ত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সকল ধর্মের ধর্মীয় নেতা, পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •