( ভিডিওসহ) মৌলভীবাজারে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে দ্বিতীয় জাতীয় চা দিবস ২০২২

June 4, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ ‘‘চা দিবসের সংকল্প’ সমৃদ্ধ চা শিল্প’’ এই শ্লোগান নিয়ে মৌলভীবাজারে দ্বিতীয়বারের মত নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় ‘চা দিবস ২০২২’।
শনিবার ৪ জুন সকালে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের করা হয় এক বর্ণাঢ্য র‌্য্যলী। র‌্য্যলীটি চা গবেষণা কেন্দ্রের ক্যাম্পাস ও আসে পাশের এলাকা ঘুরে আবার চা গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানিয়া সুলতানা। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আব্দুল আজিজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলস্থ প্রকল্প পরিচালক ড. রফিকুল হক, বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশনের সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিনন্ন চা বাগানের সিনিয়র প্লান্টার্স, বিটিআরআই ও পিডিইউ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলস্থ প্রকল্প পরিচালক ড. রফিকুল হক জানান, বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫১ সালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৪ জুন থেকে ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর সাল পর্যন্ত প্রথম বাঙালি হিসেবে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে চা শিল্পের উন্নয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। চা শিল্পে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান ও চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর যোগদানের তারিখকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে চা শিল্পের ভূমিকা বিবেচনায় গত ২০ জুলাই ২০২০ তারিখে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৪ জুনকে ‘জাতীয় চা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বৃটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় ১৮৩৪ সালের দিকে দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলের সিলেট জেলায় চায়ের চাষাবাধ শুরু হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলায় তা সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে দেশে বানিজ্যিক চা বাগানের সংখ্যা ১৬৬ টি। আর সিলেট অঞ্চলে চা বাগানের সংখ্যা ১৩৭ টি। চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার জেলায় আছে ৯৪ টি চা বাগান। এর বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বানিজ্যিক এবং উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় ব্যক্তি পর্যায়ে চায়ের চাষবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সুত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ চা মৌসুমে দেশে ৯৫ দশমিক ৬০ মিলিয়ন কেজি এবং ২০২১-২২ মৌসুমে ৯৬ দশমিক ৭০ মিলিয়ন কে জি চা উৎপাদিত হয়। যাহা এখন পর্যন্ত দেশে চায়ের সর্বোচ্চো উৎপাদন রেকর্ড।
ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া চা বাগানের জেলারেল ম্যানেজার জি.এম শিবলী বলেন, দেশে বর্তমানে চা চাষ সম্প্রসারণে বড় বাধা প্রয়োজনীয় টিলা তথা বনভূমির অভাব। পাশাপাশি চায়ের বাজার মূল্য এখন অনেক কম।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •