রাজনগরে মোবাইল কোর্টের ২০২ টি মামলা সনাক্তের সংখ্যা বাড়ছেই তবুও সচেতন হচ্ছে না মানুষ

July 10, 2021, এই সংবাদটি ৬৬৪ বার পঠিত

আউয়াল কালাম বেগ॥ লকডাউন  চলাকালে গত ৮ দিনে  রাজনগরে ২০২ টি মামলা করেছে মোবাইল কোর্ট। এসময় বিভিন্ন  ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয় ৯৬ হাজার ৪০০ টাকা। এদিকে প্রতিদিন রাজনগরে করোনা সনাক্তের হার বাড়ছে। গত ৮ দিনে এই উপজেলার  ৪৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।  উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহ মারা গেছেন দুই জন। আশংকাজনক অবস্থায় প্রাইভেট হাপাতালে চিকিৎসাধীনে আছেন একজন।  সনাক্তকৃতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ও  ডাক্তার সহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন। তারা বাসা বাড়িতে  আবার অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে আছেন

উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানাযায়, গত ১ লা জুলাই  থেকে সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে  উপজেলায় বিভিন্ন হাট বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে  কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়াঙ্কা পাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) উর্মি রায়, এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তারা লকডাউন চলাকালে সরকারের আইন অমান্য কারী ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ১৮৬০ মোতাবেক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুসারে চলমান লকডাউনের ৮ দিনে ২০২ টি মামলায় ৯৬ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ক্ষমতা প্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনী, বিজিবি, রাজনগর থানা পুলিশ ও আনসার সদস্য।

এদিকে রাজনগরে প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে গত ৮ দিনে  ৪৮ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন দুই জন এরা হলেন রাজনগর উজেলা ইলেকশন অফিসার আলিফ লায়লা। গত ৩ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরিক্ষায় দিলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে  পরে তিনি ঢাকা সিটি হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর দুই দিন আগে আরেক মহিলা সিলেট সামছউদ্দিন হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।  এদিকে করোনায় আরেকজনের অবস্থা আসংখ্যাজনক তিনি  রাজনগর বাজারের তরুণ ব্যবসায়ী রিপন খান গত ২০ জুলাই রাজনগরে  নমুনা দিলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে তার শারীরিক   অবস্থা অবনতি হলে সিলেট একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চিকিৎসক বলেছেন তার লিভার ৬০% ডেমিজ। তাকে প্লাজমা ১+ প্রয়োগ করতে হবে। উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনের করোনা পরিক্ষায় নেগেটিভের তুলনায় পজিটিভের হার বেশী। এসব দেখার পরও মানুষ সচেতন হচ্ছেনা। মোবাইল কোটের লোকজন দেখলে দোকানের সাটার লাগানী ও মাক্স পরিধানের ধুম পরে যায়। আবার মোবাইল কোটের লোকজন চলে যাবার পর দোকান পাট খোলে দিয়ে শুরু হয়ে যায় মানুষের ঠেলাটেলি। জানা গেছে  অনেক বাজারের দোকানীরা লোক ভাড়া করে পাহারাদার বসিয়ে রাখছেন মেবাইল কোটের লোক জনকে দেখার জন্য।  পাহারাদার মোবাইল কোটের লোকজন দেখামাত্র সংকেত দেন দোকানদারকে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা দেখা গেছে কঠোর লকডাউনের বিধি নিষেধ মানার প্রবনতা মানুষের মাঝে একে বারেই কম।

এদিকে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি পরিবারের অধিকাংশ সদস্যরা সর্দি,কাশি জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ আছেন। সে তুলনায় নমুনা পরিক্ষা করাতে মানুষের আগ্রহ খুব কম। দেখা গেল আমার এক  প্রতিবেশী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গত ৪ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরিক্ষায় দিলে রিপোর্ট পজেটিভ আসে ষথচ ৭ জুলাই এই ব্যাক্তিকে রাজনগরে ঘুরাঘুরি করতে দেখে আমি বকা দেই  উনি আমাকে ঔষধ ক্রয় করতে আসার অজুহাত দেখান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াঙ্কা পাল বলেন,

মাস্ক পরিধান করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চলমান কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তিনি উপজেলাবাসিকে সচেতন হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •