লিখিত আপত্তির পরও নিজ সম্পত্তিতে অন্যের নামে মিটার স্থাপনের অভিযোগ

July 17, 2021, এই সংবাদটি ১৮৫ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ করার সাড়ে ৩ মাস পর প্রভাবিত হয়ে নিজের সম্পত্তিতে অন্যের নামে মিটার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের উপর ক্ষুব্দ হয়েছেন ভুমি মালিক। গত ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের লওরাজপুর গ্রামের মিসবাহ উদ্দিনের যৌথসম্পত্তিতে বিদ্যুতের নতুন মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

ভুমির মালিক মিসবাহ উদ্দিন ও তার আত্মীয়রা জানান, বাড়ির যৌথসম্পত্তিতে নতুনভাবে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ অবস্থায় বালিয়া মৌজার বর্ণিত ভবন নির্মাণের পতিত ভুমির উপর দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতায়নের খুঁটি ও তার টানানো হয়। জোর আপত্তি উপেক্ষা করে এই তার টানানো হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে আপত্তি জানিয়ে গত ১ এপ্রিল মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএমকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। লিখিত আপত্তি দেয়ার সাড়ে তিন মাস পর টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আব্দুল কাদির স্বাধীন পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জোরপূর্বক মিটার স্থাপন করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির টিলাগাঁও অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুমির মালিক মিসবাহ উদ্দিন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশ প্রশাসনের জোরপূর্বক হস্তক্ষেপে আমাদের যৌথ সম্পত্তিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অবৈধভাবে মিটার স্থাপন করেছে। এ বিষয়ে আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে আব্দুল কাদির স্বাধীন বলেন, মৌরসী সত্ত্বে এ ভুমির মালিক আমি। তাই ঘর বানানোর পর মিটার স্থাপন করেছি। উপরন্ত মিসবাহ উদ্দিনের বাড়িতেও আমরা ভুমির অংশীদার আছি। তারা আমার মিটার স্থাপনে বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। অভিযোগ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির টিলাগাঁও অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মঈনুদ্দীন আহমদ বলেন, তাদের অভিযোগ যথাযথ ছিল না। তাছাড়া বিদ্যুতের মিটার স্থাপনের জন্য স্থানীয়দেরও চাপ ছিল, তাই মিটার লাগানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক বলেন, মিটার স্থাপন নিয়ে তাদের দু’পক্ষের বিরোধ রয়েছে। মিটার লাগানোর বিষয়ে হয়তো আব্দুল কাদির স্বাধীনের অভিযোগে পুলিশ আসতে পারে। সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হোসেন বলেন, আব্দুল কাদির স্বাধীনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিটার লাগানোর জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তাদের জমিজমার বিরোধ আছে, তবে বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয় এবং সেও যৌথ সম্পত্তির মালিক।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মীর গোলাম ফারুক বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের জোর দাবির প্রেক্ষিতে মিটার স্থাপন করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীরা আইনানুগভাবে তাদের সপক্ষে কাগজপত্র নিয়ে আসলে আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •