শ্রীমঙ্গলে মসজিদ ও মন্দিরে হামলা-মাদকাসক্ত আটক

September 4, 2021, এই সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক মাদকাসক্তের আচরণে অতিষ্ঠ পুরো গ্রাম। তার উপদ্রবের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেনা মসজিদ মন্দিরও। ৪ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোরে এই মাদকাসক্ত শ্রীমঙ্গল দক্ষিন উত্তরশুর শাহজীর বাজার জামে মসজিদের মুসল্লিদের উপর হামলা করে বন্ধ করে দেয় ফজরের আযান। ভেঙ্গে দিয়েছে দক্ষিন উত্তরশূর ভৈরব মন্দিরের একটি মুর্তি। এ ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামবাসী ওই মাদকাসক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক মাদকাসক্তের নাম সুমন মিয়া (২৫)। সে দক্ষিন উত্তরশূর গ্রামের নিজাম মিয়ার ছেলে।
দক্ষিন উত্তরশুর শাহজীর বাজার জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম মোঃ আলী হোসেন জানান, তিনি যখন শনিবার ফজরের আযান শুরু করেন তখন ওই মাদকাসক্ত মসজিদে প্রবেশ করে ভোলকাভোলকি শুরু করে। ২য় বার সে দৌড়ে মসজিদের সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে তার দিকে দৃষ্টি রাখে এ সময় অন্ধকারে তাকে চিনতে পারেন নি। তিনি ভয় পেয়ে আযান বন্ধ করে দেন তখন আযানে ভুলও হচ্ছিল। পরে মসজিদের অপর ইমাম মোরশেদ কামাল জালালী আসলে সে মাদকাসিক্ত সুমন ইমাম জালালীর উপর চড়াও হয়। হাতে ছিলো দা। এ সময় তিনি বন্ধ হওয়া আযান সম্পন্ন করেন।
ইমাম মোরশেদ কামাল জালালী জানান, মাদকাসক্ত সুমন তার সেল ফোনটি নেয়ার জন্য খুব পিড়াপিড়ি করে। মোবাইল ফোন না দেয়ায় তার সাথে অসালীন আচরণ করে চলে যায়।
মসজিদের সভাপতি হাজী মো: জসিম উদ্দিন জানান, ফজরের নামাজ পড়তে এসে জানতে পারেন এ ঘটনা। নামাজ পড়ে বাড়ি যাওয়ার পথে তার পথ আটকে মোবাইল ফোন চায় মাদকাসক্ত কামাল। এ সময় তিনি তার কাছে মোবাইল নেই এবং কেন এমন করেছে জানতে চাইলে তাঁর উপর আক্রমন করে বসে সে। তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় তাঁর চিৎকার শোনে পাশের বাড়ির এক লোক এসে তাকে রক্ষা করেন।
এদিকে মসজিদ থেকে ফেরার সময় দক্ষিন উত্তরশূর ভৈরব মন্দিরে প্রবেশ করে নাট মন্দিরের এক পাশে রাখা বিসর্জন করা স্বরসতি মূর্তির মাথা ভেঙ্গে ফেলে। মন্দিরের সেবায়েতের স্ত্রী অলি রানী দাশ জানান, এ সময় তার হাতে ধারালো দা ছিলো। দা দিয়ে তাকেও ভয় দেখায়।
মন্দিরের সেবায়েত বন দাশ জানান, ছেলেটা নেশাগস্থ। তার ভয়ে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাদের মূর্তি ভাঙ্গার পর তিনি বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে অবগত করেছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় গ্রামবাসী প্রানতোষ সোম মালু জানান, এই ছেলে নেশাগস্থ হয়ে নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এর আগেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে জেল কেটেছে। জেল থেকে বের হয়ে এসেই সে শুরু করে তান্ডব। সব সময় তার সাথে হয় দা না হয় ছোরা থাকে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য দুদু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ভোরবেলা তিনি ঘটনাস্থলে যান। মন্দির মসজিদের আক্রমন ছাড়াও গ্রামের আরো ৮/১০জন মানুষের কাছ থেকে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে চাইছিলো। মোবাইল ফোন না দেয়ায় সকলের সাথে সে খারাপ আচরণ করে। পরে গ্রামবাসী তাকে খোঁজতে বের হয়ে গ্রামের শেষ প্রান্থ থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় যুবকরা।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় জানান, এটি সাম্প্রদায়িক কোন ঘটনা নয়। একজন মাদকাসিক্ত একই সাথে মসজিদ মন্দির ও হিন্দু মুসিলিম আনেক মানুষকে উত্যেক্ত করে। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানা এস আই আসাদ জানান, মাদকাসক্ত সুমন এর আগেও অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। আরও একাধিকবার তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •