শ্রীমঙ্গলে স’মিল শ্রমিকদের সরকার ঘোষিত মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবি

January 21, 2023,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ স’মিল শিল্প সেক্টরের জন্য সরকার গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষিত মজুরি এবং নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান ও ৮ ঘন্টা কর্মদিবস নির্ধারণসহ অবিলম্বে শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে স’মিল শ্রমিক সংঘ।

শুক্রবার ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘ রেজিঃ নং চট্টঃ ২৮৬৪ এর উদ্যোগে ভানুগাছ রোড এলাকায় অনুষ্টিত সাধারণ সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়। উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সভাপতি মোঃ শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বি-২২০০ এর সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস।

স’মিল শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্টিত সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের দপ্তর সম্পাদক মোঃ রিপন মিয়া, তোরাব আলী, আব্দুল করিম প্রমূখ।

সভায় বক্তারা বলেন,  গত ৬ জুন/২২ সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ড স’মিল শিল্প সেক্টরেরর শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি হার গেজেট(এস, আর, ও নম্বর-১১২-আইন/২০২২) আকারে প্রকাশ করেন। সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি অনুযায়ী পৌর এলাকার স’মিল মিস্ত্রির মাসিক মোট মজুরি ২৭,০০৫ টাকা( দৈনিক ১০৪০ টাকা); সহকারি মিস্ত্রির মাসিক মোট মজুরি ২১,৩৫০ টাকা( দৈনিক ৮২৫ টাকা); টানোয়ার মাসিক মোট মজুরি ১৯,৬১০ টাকা( দৈনিক ৭৬০ টাকা);  হেলপার  ও অন্যান শ্রমিকদের মাসিক মোট মজুরি ১৮,৪৫০ টাকা( দৈনিক ৭১০ টাকা) এবং শিক্ষানবিস শ্রমিকদের মাসিক মোট মজুরি ১১,০০০ টাকা (দৈনিক ৪৫০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।  এছাড়াও গেজেটে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরির সাথে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) কথা বলা হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন বর্তমান দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে স’মিল শ্রমিকরা দিশেহারা। চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি, পিয়াজ, শাক-সবজি, মাছ-মাংস, দুধ-ডিম, ঔষুধপত্রসহ নিত্যপণ্যে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস, বাড়ি ভাড়া-গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আবারও গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। শ্রমিকদের এই দূর্দশার সময়ে সরকারের নি¤œতম মজুরি বোর্ড ঘোষিত মজুরির চেয়ে কম মজুরির শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তদোপরি প্রতিনিয়ত স’মিল শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স’মিলে কর্মরত শ্রমিকদের শতকরা ৬০ ভাগ দূর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন। এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অঙ্গহানি হয়, কোন কোন ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। কাজ করতে যেয়ে এ সমস্ত দূর্ঘটনার শিকার শ্রমিকের উপযুক্ত চিকিৎসা যেমন মালিক করে না, তেমননি অঙ্গহানি ও মৃত্যুর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপুরণও মূলত দেওয়া হয় না।

স’মিলের মালিকরা শ্রমআইন, রাষ্ট্রীয় আইনের তোয়াক্কা করেন না। শ্রমআইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান, দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি, মজুরিসহ সাপ্তাহিক ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি(বছরে ১০ দিন), চিকিৎসা ছুটি (বছরে ১৪ দিন), উৎসব ছুটি (বছরে ১১ দিন) অর্জিত ছুটি (বছরে ২০ দিন) ইত্যাদির প্রদানের বিধান থাকলেও তা প্রদান করা হয় না।

সভা থেকে স’মিল শিল্প সেক্টরে শ্রমআইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন করার জন্য স’মিল মালিকদের প্রতি আহাবান জানান এবং একই সাথে এ বিষয়ে তদারকি করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হিসেবে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের স্বীয় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়ার দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •