শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

June 10, 2021, এই সংবাদটি ১৯৩ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ রণধীর কুমার দেবের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্তত: হাফডজনেরও বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো এ শূন্য আসনে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি।
অন্যদিকে, এ উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় শূন্য মাঠে গোল দিতে মরিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। কৌশলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের বলয়ের কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন আগাম প্রচারণা। ছুটছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দ্বারে দ্বারে। তবে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। যদিও এই ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। শুধু ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
কে পাবেন দলের মনোনয়ন তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্টীসহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের বসবাস। গেল ২১ মে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে শ্রীমঙ্গল উপজেলার টানা তিনবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান রণধীর কুমার দেব ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে শূন্য হয় চেয়ারম্যান পদটি। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। ভোট কারচুপি আর ক্ষমতাসীনদলের পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগে সম্প্রতি দলীয়ভাবে আর কোনো উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সেজন্য স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাঝে এ নির্বাচনকে ঘিরে মাথাব্যথা নেই। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঘরানার দলীয় পদ-পদবি ছাড়াও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও নামতে চাইছেন ভোট যুদ্ধে।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে গুঞ্জন রয়েছে প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যানের পুত্র রাজু দেব লিটনের নামও। তিনি বর্তমানে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য তার বাবার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে চাপ দিচ্ছেন। যদিও তিনি এ নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি। যদি দলীয় বিবেচনায় তাকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা ফেসবুকে চালাচ্ছেন প্রচারণা। এরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ হোসেন ইকবাল। তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। এরই মধ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের দলীয় স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সজ্জন ও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।
এছাড়া দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন লাভের চেষ্টা চালাচ্ছেন বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইউছুফ আলী, সিনিয়র সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আছকির মিয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তফাজ্জল হোসেন ফয়েজ, দল নিরপেক্ষ হিসেবে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনা চৌধুরী, আওয়ামী ঘরানার বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রেম সাগর হাজরা, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া আহমদ, পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য বদরুজ্জামান সেলিম, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যন ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মো. আফজল হক, আওয়ামী ঘরানার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহর তরফদার ও শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মূলত: উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ হোসেন ইকবাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যন মো. আছকির মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইউছুফ আলীকে ঘিরেই দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির লড়াই হবে। তবে অনেকে আবার বলছেন এর বাইরেও যে কেউ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বাগাতে পারেন। পাশাপাশি জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেনের সমর্থকরাও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার কথা ফেসবুকে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছে।
সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুসারে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৭৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৭ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৯৯ জন। উল্লেখ্য, রণধীর কুমার দেব ২০০৯, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি উপজেলার শতভাগ চা শ্রমিক অধ্যুষিত সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •