
কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র দিতে ২৩ মিনিট বিলম্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি উপজেলার মনসুর মোহাম্মদীয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা একই উপজেলার শ্রীপুর জালালীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও দাখিল পরীক্ষার্থী। এমন কান্ড ঘটায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোমবার ১৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়,রোববার ১৪ নভেম্বর দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র মনসুর মোহাম্মদীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৩নং কক্ষে পরীক্ষা দিতে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দাখিল কোরআন মাজিদ পরীক্ষা ছিলো। পরীক্ষা শুরুর সময় সকাল দশটার দিকে এমসিকিউ ( শর্ট প্রশ্ন) দেওয়া হয়। পনেরো মিনিট পরে আবার সেটি নিয়ে যাওয়া হয়। তখন লিখিত পরীক্ষার খাতা দেওয়া হলেও প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়নি। ২৩ মিনিট পর প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তখন কর্তৃপক্ষ তাদের সময় বাড়িয়ে দেওয়ার সান্তনা দেন। কিন্তু পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে আবার খাতাগুলো নিয়ে যাওয়া হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এ সময় পরীক্ষার্থীরা বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে আরো কিছু সময় চাইলে তাদের সে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. আবুল হাজালাত, মো. রেদওয়ানুল হক রাহেল, আাশরাফুল ইসলাম, সাব্বির আহমদ, সাকিব আহমদ, ইমন আহমদ, সাকিবুল হাসান, আবু বকর, রিয়াজুল ইসলাম, তরিকুল ইসলামসহ একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, মনসুর মোহাম্মদীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৩নং কক্ষে আমরা দুই মাদ্রাসার ৩৮জন পরীক্ষার্থী ছিলাম। পরীক্ষার প্রথম দিন কোরআন মাজিদ পরীক্ষা ছিলো। নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট পরে প্রশ্নপত্র দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হল সুপারসহ কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস দেন বিলম্ব সময় কাভারেজ করে দেওয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে আমাদের খাতাগুলো তুলে নেন হলের দায়িত্বরত শিক্ষকরা। বিলম্বের কারণে পাশের উত্তর লিখতে পারিনি। তখন আমরা কেন্দ্র সচিব এ এইচ এম বজলুল রহমানের কাছে গিয়ে অনেক অনুরোধ করলেও তিনি কোন সুরাহা দিতে পারেননি। ফলে আমরা আমাদের ফলাফল বিপর্যের আশঙ্কায় পড়েছি। বিষয়টি আমাদের মাদ্রাসার সুপারসহ সবাইকে তাৎক্ষণিক অবগত করি।
এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব এ এইচ এম বজলুল রহমানের মুঠোফোনে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে যোগাযোগ করা হলে উনার স্ত্রী আরফাহ আক্তার ফোনকল রিসিভ করে জানান, ‘আমার স্বামী ভুলে বাড়িতে মোবাইল রেখে চলে গেছেন। ’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামীকাল সরেজমিন শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ওই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যাবো। তখন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ হলরুমে দায়িত্বরত শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবের সাথে কথা বলবো। তদন্তে যদি দায়িত্বরত শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.