
তমাল ফেরদৌস॥ নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে একাট্টা মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। যুবলীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোও মাঠে খুবই তৎপর দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রের নির্দেশে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন নেতারা। বক্তৃতা, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগে তাঁরা দিন ও রাত কাটাচ্ছেন। যতো দিন যাচ্ছে নৌকার প্রার্থীর অবস্থান ভালো হচ্ছে বলে জানান নেতারা। এদিকে প্রার্থীরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছেন। প্রচার প্রচারণার জন্য ফেসবুক এখন একটা বড় অংশ দখল করে রেখেছে। তাঁদের দিন ও রাতের বিভিন্ন কর্মসূচী পোস্ট করে নিজেদের প্রচারণার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিত অপরিচিত জনদের। এসব পোস্ট দেশ ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বেও ছড়িয়ে পড়ছে। প্রবাসে বসবাসরত প্রার্থীদের স্বজনরা সেসব পোস্ট দেখছেন। প্রার্থীদের স্বজনরাও প্রবাস থেকে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন অ্যাপস্ এর মাধ্যমে প্রচারণা করে যাচ্ছেন।
দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে তৎপর রয়েছেন, মৌলভীবাজার সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রাধাপদ দেব সজল। মাঠে রয়েছেন কেন্দ্র্রীয় যুবলীগের উপ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমিন, জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউর রহমান সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট গৌছ উদ্দিন নিক্সন, কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমদ চৌধুরী। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানকেও মাঠে দেখা যাচ্ছে প্রায়ই। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম এরাও মাঠে কাজ করছেন।
জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর মেয়র ফজলুর রহমান জানান, দলের প্রার্থীকে জেতানো এখন আমাদের প্রধান কাজ। এমুহুর্তে জেলা আওয়ামী লীগ নির্বাচন ছাড়া কিছুই ভাবছে না। আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন প্রার্থীর গণসংযোগে অংশগ্রহণ করছি। আশা করি নৌকার প্রার্থীর বিজয় হবেই।
জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন জানান, এমুহুর্তে দলে কোন বিভেদ নাই। একটাই লক্ষ্য যেকোন মূল্যে দলের প্রার্থীকে জেতাতে নেতাকর্মীরা একাট্য। দলের ইউনিয়ন থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যতো নেতাকর্মী রয়েছে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠে কাজ করার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা প্রার্থীকে জেতাতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। একথায় নৌকার বিজয় ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।
কেন্দ্র্রীয় যুবলীগের উপ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমিন জানান, এমুহুর্তে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছিনা। আমি কেন্দ্রের নির্দেশে মাঠে কাজ করছি। যদিও প্রার্থীরা তাঁদের ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনপ্রিয়তা দিয়ে নির্বাচনে ভোট সংগ্রহ করবে তথাপি আমরা দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের জন্য মাঠে কাজ করছি।
এদিকে দিন যতো ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটাররাও হিসেব নিকেশ শুরু করে দিয়েছে। এখন গ্রামগঞ্জে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিকেল থেকেই প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় শুরু হয়ে যায় ভোটারদের পদচারণা। প্রতিদিন হিসেব হয় আবার পরদিন এই হিসেব বদলায়।
প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী বিদ্রোহী, বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট মোটামোটি জমে ওঠেছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বর্তমান ও নতুন মুখ ইউপি সদস্যদের মাধ্যমেও ভোট নিজেদের বাক্সে আনার কৌশল অবলম্বন করছেন। এছাড়া গ্রামে গ্রামে ১০/১২জন করে কর্মী সমর্থকদের দল করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এই হিসেবে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা এগিয়ে রয়েছেন।
দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ দলীয় কর্মী সমর্থকরা মাঠে সরব রয়েছেন অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশি। প্রতিদিন দল বেঁধে প্রচারণা করছে কর্মীরা। প্রচারণা করলেই ভোট পাওয়া যাবে এই কথা মানছেন না অনেক ভোটার। তবে প্রবীন ও অভিজ্ঞ ভোটাররা মনে করছেন এখনও ভোটের সপ্তাহের বেশি দিন বাকী। তাই কয়েকদফা ভোট নড়াচড়া হবে। শেষমেষ যার দিকে ঝুঁকে বা যে প্রার্থীকে নিয়ে সিংহভাগ ভোটারের মুখে কথা ছড়িয়ে পড়ে তাঁরই বিজয় হয়। তবে অনেক সময় মৌণ ভোটেও অনেকেই জয়ী হন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.