
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বুজবল এলাকায় লস্যিধারা দখল হয়ে যাওয়ায় ভরাট খাল ব্যক্তি উদ্যেগে খননকাজ শুরু হয়েছে। এস্কেভেটর দিয়ে এর খননকাজ চলছে। ৬’শ মিটার দীর্ঘ এই খালটি প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে ভরাট হওয়া খালটি পূর্বের রুপে ফিরতে শুরু করেছে।
৩০ জানুয়ারী রবিবার খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা রহমান বাঁধন, মোস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ, গিয়াসনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোশারফ টিটু, কৃষি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান সাংবাদিকদের বলেন, দখলের কারণে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় অস্তিত্ব হারিয়ে যায়। ফলে বোরো ফসল চাষাবাদ ব্যাহত হয়। তাই এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণে খালটি পুনরুদ্বার করে খনন শুরু হয়েছে। এতে এই এলাকায় কৃষিতে বিল্পব ঘটবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, কৃষকদের দাবি ছিল পানি দেয়ার জন্য, আমরা ফসল দেব। তাই কৃষকদের সেচ সহায়তার জন্য পুরনো খালটি পুনরুদ্ধার করে এই এলাকার অনাবাদি জমি বোরো চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। খালটি খনন করা গেলে পুরো এলাকায় সেচের আওতায় আসবে এবং এক ফসলি জমিতে তিনটি ফসল চাষ হবে। যেটা এলাকাবাসীর জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনা। এতে শত শত কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। এই খাল খনননে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৭শ থেকে ৮শ বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ সহজ হবে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক উৎসস্থল সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লস্যিধারা খাল মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ও গিয়াসনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে সীমানা এলাকা থেকে কোদালীছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রায় দুই হাজার ফুট দীর্ঘ এই খাল কোথাও প্রায় ৩৫ ফুট আবার কোথাও ৫০ ফুট প্রশস্ত ছিল। একসময় নৌকা চলাচল করত এই খালে। স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয় লোকজন খাল দখল করতে শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভরাট হয়ে যায়। আজমেরু গ্রামের একলিম মিয়া বলেন, আমরা নানা গৃহস্থালি কাজে এর পানি ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন সেই খাল দেখে বোঝা মুশকিল, এটা খাল না জমি। যার কারণে আমরা এলাকার ২০ থেকে ২৫ পরিবার চাষাবাদ করা ছেড়েই দিয়েছি। খালটি আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে গেলে বোরো চাষ করতে পারব।
ভুজবল গ্রামের সুনীল কুমার দাশ বলেন, দখলমুক্ত করে খাল খননের জন্য আমরা অনেক বছর ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু আগে কোনো উদ্যোগ নেননি কেউ। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক উদ্যোগ নিয়েছেন। মাত্র চার পরিবারের দখলমুক্ত হলে শতাধিক কৃষক পরিবার উপকৃত হবে। এতে আমরা শুধু উপকৃত হব না দেশ ও উপকৃত হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.