
স্টাফ রিপোর্টার॥ শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মৌলভীবাজারে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে জেলা সার্বজনীন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ।
তীব্র রোদের উত্তাপ উপেক্ষা করে এসময় রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষজন তা উপভোগ করে। সনাতন নারীরা উলুধ্বনি দিয়ে মিছিলকে স্বাগত জানায়। শঙ্খ ধ্বনি আর ঢাকঢোলের বাদ্য বাজনা নিয়ে উৎসবমুখর মিছিলে অংশ নেন ভক্তবৃন্দরা। শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের সরব অংশগ্রহণ দেখে মনে হয়েছে, যেন কৃষ্ণ প্রেমের এক অদৃশ্য টানে ছুটে চলেছেন তারা শেকড়ের সন্ধানে।
১৯ আগস্ট বিকাল ৩টায় জেলা শহরের পশ্চিমবাজারস্থ মদনমোহন জিউর আখড়া প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।
এই শোভাযাত্রাটি হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয় মিলনমেলায়। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত কৃষ্ণ ভক্তরা নেচে গেয়ে বাদ্য বাজনা বাজিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে মঙ্গল শোভাযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করেন পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা, উপজেলা ও পৌর শাখার নেতৃত্ববৃন্দ সহ হাজারো সনাতন ভক্তবৃন্দ।
জেলা সার্বজনীন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার ভট্টাচার্য বলেন, জন্মাষ্টমীর উৎসবকে কেন্দ্র করে মদনমোহন জিউর আখড়া থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়াও দিনব্যাপী জেলার কেন্দ্রীয় কালিবাড়ীতে পূজার্চনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে।
সদর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমেশ দাস যীশু জানান, শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করেন। এই দিন ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভের আশায় ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে মন্দির ও বাসাবাড়িতে নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করেন।
সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে, ভগবান বিষ্ণুর একটি বিশেষ রূপ হিসেবে মানা হয় শ্রীকৃষ্ণকে। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পৃথিবীতে সাকার রূপে আবির্ভূত হন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর আবির্ভূত হওয়ার এই দিনটিই শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী নামে পরিচিত।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.