
মাহফুজ শাকিল॥ কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে জন্মসনদসহ বিভিন্ন সনদ প্রাপ্তিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের জনসাধারণ। জন্ম নিবন্ধন সনদের ফি বাবদ আর্থিকখাতে হেরফেরের অভিযোগে বর্তমান ইউপি সচিব মোঃ বুরহান উদ্দীন বদলি হওয়ায় এ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিদিন শত শত মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে নতুন জন্মসনদ, পুরাতন জন্মসনদ অনলাইন করা, উত্তরাধিকারী সনদসহ অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্রাদি সংগ্রহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন। কিন্তু হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সচিবের বদলি ও অর্থ হেরফেরের বিষয়ে চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ এবং সচিব বুরহান উদ্দিন একে অপরকে দোষারোপ করছেন। চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ ও সচিব বুরহান উদ্দীনের মধ্যে এ নিয়ে পরিষদে বাকবিতন্ডাও হয়েছে।
এদিকে সচিব বুরহান উদ্দিন কর্তৃক ইউনিয়নের জন্মসনদ বাবদ ৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়া, ভিজিডি চাল বাবদ উপকারভোগীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ উত্তরাধিকারী সনদ ফি বাবদ ৩-৪ লক্ষ টাকার অনিয়ম বিষয়ে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ।
সরেজমিন কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে কথা হয় সীমান্তবর্তী দশটেকি গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জিল আলী, টাট্টিউলী গ্রামের সাজু মিয়া, মনসুরপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম, লিপি বেগম, রজব আলীসহ অন্তঃত ১৫-২০ জন মানুষের সাথে। মোয়াজ্জিল আলী ও সাজু মিয়া বলেন, এক সপ্তাহ থেকে জন্ম সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসি, কিন্তু সনদ নিতে পারছি না। ফলে চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে ভোট তুলতে পারছি না। স্কুল পড়–য়া তিন ছেলেকে টিকা দিতে হলে জন্মসনদের প্রয়োজনে এক সপ্তাহ থেকে ইউনিয়নে আসেন রজব আলী। কিন্তু সচিব নেই। কেন নেই বিষয়টির কেউ সদুত্তর দিতে পারছেন না। বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে জন্ম সনদের জন্য ইউনিয়নে আসেন জহিরুল ইসলাম। একই এলাকার লিপি বেগম ভাইয়ের জন্মসনদ নিতে পাঁচদিন আসেন ইউনিয়নে। ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।
এ বিষয়ে কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ বুরহান উদ্দীন বলেন, আমি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে কথা বলবো। তবে চেয়ারম্যানের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি জন্মসনদের অর্থ হেরফের করেছি এটা চেয়ারম্যান তো আর বললে হবেনা। চেয়ারম্যান যে কোন অভিযোগ করতে পারেন আমি তো আর পারিনা, আমি তথ্য প্রমাণাদিসহ কথা বলবো আপনাদের সাথে। আমি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
জানতে চাইলে কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ বলেন, পরিষদের জন্মনিবন্ধনের ফি সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার দায়িত্ব সচিবের। এখানে চেয়ারম্যানের কোন এখতিয়ার নেই। সচিবের কাছে জন্ম সনদের ফি বাবদ বিগত পরিষদের ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ আমার সময়কালের চলমান জন্মসনদের ফিসহ মোট ৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জমা ছিলো, কিন্তু সচিব টাকাগুলো সরকারী কোষাগারে জমা দেননি। এমনকি বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও উত্তরাধিকারী সনদ বাবদ প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকার হিসাব সচিব আমাকে আজও অবধি দেননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। নতুন সচিব পেয়েছি। তবে তিনি (নতুন সচিব) আগের সচিবের টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দেওয়ার কারনে আপাতত যোগদান করেন নি। যারকারণে সাময়িক ভোগান্তিতে রয়েছেন জনগণ।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, সচিবের কাছে জন্মসনদ ফি বাবদ কিছু টাকা পাওনা আছে। সেগুলো আদায়ের ব্যবস্থা নিচ্ছি। খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক মল্লিকা দে মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, কোন অবস্থাতেই ইউনিয়নের জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে রাখা যাবে না। সচিবের কাছে জন্মসনদ বাবদ সরকারি টাকা কোষাগারে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করছি। অচিরেই বিষয়টির সমাধান হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.